মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ প্রতিনিধি : উপজেলার সাতবাড়ীয়া হাফেজ নগর দরবার শরীফের সামনে নিজ দোকানে নিহত রফিকুল ইসলাম হত্যার দীর্ঘ ১০ বছর ১ মাস ২০ দিন পর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ করিমের আদালতে চার্জ গঠনের পর রফিক হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৪ এপ্রিল রাতে উপজেলার সাতবাড়ীয়া হাফেজ নগর দরবার শরীফের সামনে পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া ইউনিয়ন কালিয়াইশের বাসিন্দা সামশুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (২২) দোকান বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা রফিককে হাত-পা বেঁধে গলাই জবেহ করে হত্যা করে। পরদিন ৫ এপ্রিল সকালে রফিককে দোকান খুলতে না দেখে স্থানীয়রা দোকানের ভিতরে রফিকের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রফিকের লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে ৫ এপ্রিল রফিকের পিতা সামশুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি দায়ের হওয়ার পর ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত করে ৩টি চার্জশীট দাখিল করেন। এর মধ্যে প্রথমে চন্দনাইশ থানার এস আই গোলাম ফারুক, ডিবি পুলিশ, সিআইডি-চট্টগ্রাম, সিআইডি-রাঙ্গামাটি, সিআইডি-খাগড়াছড়ি, সিআইডি-বান্দরবানে, সিআইডি-চট্টগ্রামের এ এস পি নাজির উদ্দিন ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর চার্জশীট দাখিল করেন। পরবর্তীতে জেলা পিপি আবুল হাশেম ২৮ অক্টোবর’০৯ সালে নারাজির দরখাস্ত দিলে সিআইডি’র কালাসিং প্রু পুনরায় তদন্ত সাপেক্ষে ১২ জনকে আসামী করে মামলার চার্জশীট দাখিল করেন। এর মধ্যে মামলায় ৭ জন আসামী জামিনে থাকলেও, ৫ জন আসামী পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়। দীর্ঘ তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ ৯১ জন সাক্ষীর জবানবন্দীর রেকর্ড করেন, ৩ জন আসামীর ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করেন। জামিনপ্রাপ্ত আসামীরা হলো দরবারের শাহজাদা এ এম শরীফুল আনোয়ার, শাহজাদা সৈয়দ শহীদুল আনোয়ার, শাহজাদা সৈয়দ শফিউল আনোয়ার ও দরবারের ভক্ত মো. আবদুল আলিম মিয়া, খোকন মিয়া, মো. ওসমান, অহিদ উল্লাহ। আজ ২৩ আগস্ট বিজ্ঞ আদালত উভয়পক্ষের শুনানীয়ান্তে আসামীদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা পিপি এ কে এম সিরাজুল ইসলাম, এড. সামশুদ্দিন ছিদ্দিকী টিপু, এডিশনাল পিপি এড. মো. দেলোয়ার হোসেন। আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. সবু প্রসাদ বিশ্বাস, এড. পূর্ণেন্দু বিকাশ চৌধুরী, এড. আবদুল হাকিম।
