নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ : উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মোবাইলের মাধ্যমে ৫১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গতকাল ৩০ আগস্ট দুপুরে উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানকে ০১৭১৮৫৯৯০৪৮ মোবাইল নাম্বার থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর পরিচয় দেন। এ সময় তিনি কাঞ্চননগরের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে মাহবুব স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বাসায় ঝাড়ুদারের কাজ করেন বলে জানান। গত সপ্তাহে তার মাতা হালিমা বেগম ঢাকা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি গতকাল ৩০ আগস্ট মারা যাওয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর পরিচয়ে খুব জোরালোভাবে স্বাস্থ্য সচিবের সাথে যোগাযোগ করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে একটি ০১৭১৫০০৭২৬৬ মোবাইল নাম্বার দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসার ঝাড়ুদার মাহবুবের মাতা হালিমার লাশ গ্রামের বাড়ীতে দাফনের জন্য কাঞ্চনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ১ লক্ষ টাকার একখানা চেক পাঠাচ্ছেন এবং তার পুলিশের এস আই কামরুল সহ ২ জন লাশের সাথে এসে দাফন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
চিকিৎসা ও আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের খরচ বাবদ ২৫ হাজার টাকা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ০১৮১২৮৪৭৫০৩ বিকাশ নাম্বারে বিকাশ করতে বলেন এবং টাকা পাঠানোর পর স্বাস্থ্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কে অবহিত করার জন্য বলা হয়। তার নির্দেশ মতে চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ২৫ হাজার টাকা ও খরচের জন্য ৫শ টাকা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের বিকাশ নাম্বারে রওশনহাট বাজারের ০১৮৫৪৭৮০৯৩৮ নম্বর হতে ২১ হাজার ৫শ টাকা, ০১৮৭৬৬৬৪২২৩ হতে ৪ হাজার টাকাসহ ৫১ হাজার টাকা ০১৮১২৮৪৭৫০৩ নাম্বারে পাঠিয়ে দেয়।
কথিত স্বাস্থ্য সচিব চেয়ারম্যানকে জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রেরিতব্য ১ লক্ষ টাকার চেক থেকে ২৫ হাজার ৫শ টাকা কেটে বাকী টাকা দলীয় লোকজন এর উপস্থিতিতে মাহবুবকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেন। বিষয়টি চেয়ারম্যান মুজিব জোয়ারা ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে, তিনি বলেন, একই দিন দুপুর ২ টা ১৩ মিনিটে এ চক্রটি তাকেও ফোন করে অনুরূপ পরিচয়ে টাকা পাঠানোর কথা বলেছিল কিন্তু তার সন্দেহ হলে তিনি টাকা পাঠানো থেকে বিরত ছিলেন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান গতকাল ৩০ আগস্ট বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাহী অফিসার অভিযোগটি পেয়ে ডায়েরী আকারে চন্দনাইশ থানায় প্রেরণ করেছেন বলে জানান।
