চন্দনাইশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দনাইশ : উপজেলার দোহাজারী জামিরজুরী ফাজিল মাদরাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষকদের কর্মবিরতি ঘোষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি প্রদান। এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

গত ১৩ অক্টোবর মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসম্মান রক্ষার জন্য গত ৯ অক্টোবরের অপ্রীতিকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে মাদরাসার ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ), চট্টগ্রাম বরাবর স্মারকলিপি দেন। সে সাথে শিক্ষার্থীরা তাদের ছাড়পত্র চেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরেও স্মারকলিপি দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একজন জনপ্রতিনিধির চাপে পড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন নাই। একই সাথে শিক্ষকেরা গত বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক মহিউদ্দিন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর দু’জন শিক্ষার্থীকে বহিরাগতরা শারীরিকভাবে নির্যাতন করায় অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে গত ৯ অক্টোবর অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বৈঠকে বহিরাগতরা অতর্কিতভাবে শিক্ষক মহিউদ্দিনের উপর হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে রক্ষা করতে আসলে হাফেজ মো. শাহেদ, মাহফুজুর রহমান রিয়াদ, নাজিম উদ্দিন, আবদুর রহিম, তারেকুল ইসলাম নয়ন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে হাফেজ মো. শাহেদকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৩ অক্টোবর দুপুরে মাদরাসার ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী পরিচালনা পরিষদ সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ), চট্টগ্রাম দৌলতুজ্জামান ও সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলামের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারকলিপি দেন।
শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেছেন, মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের দু’জন সদস্য শওকত আলী ও আবদুল মোমেন লাভলু সহ বহিরাগতদের নিয়ে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
তিনি বলেন, তাদের আবেদনের মধ্যে মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ হোসেন আলকাদেরী সমর্থন দিয়ে সুপারিশ করে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে শিক্ষার্থীদের বহিরাগতদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে না পারায় পদক্ষেপ গ্রহণের বিনীতভাবে অনুরোধ করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান বলেছেন, শিক্ষকদের কর্মবিরতির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তবে এ বিষয়ে খবর নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু কাউসার ক্লাস না নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, উভয়ের মধ্যে যে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চলছে, তা অধ্যক্ষ সমাধান করে দিয়েছেন বলে তাকে জানিয়েছেন। তিনি অন্য একটি বিদ্যালয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে যেতে পারেন নাই। ১৫ অক্টোবর সকালে মাদরাসায় গিয়ে সরজমিনে তদন্ত করে পদক্ষেপ গ্রহণ করার অভিমত ব্যক্ত করেন। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা তার অফিসে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। ফলে গতকাল ১৩ অক্টোবর পঞ্চম, অষ্টম ও দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা একজন শিক্ষক ও কয়েকজন তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দিয়ে নেয়া হলেও শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার অভিভাবক মহলের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.