সিইউএফএলে অডিট আপত্তি নিস্পত্তি নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

0

আনোয়ারা প্রতিনিধি:: আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ব সারকারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) অডিট আপত্তি নিস্পত্তির নামে শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছ থেকে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কতিপয় সিবিএ নেতারা কারখানার কর্তাব্যক্তিদের যোগসাজশে সাড়ে চার শতাধিক শ্রমিকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আত্মসাতের পায়তারা করছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।

জানা গেছে,দেশের বিভিন্ন সারকারখানার মতো চট্টগ্রাম সারকারখানার (সিইউএফএল) শ্রমিক-কর্মচারীদের ওভার টাইমের পারিশ্রমিক প্রদান নিয়ে রয়েছে অডিট আপত্তি। কারখানা কর্তৃপক্ষ অডিট আপত্তি নিস্পত্তির উদ্যোগ নিলে সিবিএ নেতাদের বাণিজ্য শুরু হয়। অডিট আপত্তি নিস্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজের কথা বলে কারখানার সাড়ে চার শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অনুযায়ী প্রতিজনের কাছে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা চাঁদা ধার্য্য করা হয়। অথচ বর্তমান সরকারের গঠিত সংসদীয় কমিটি গত অর্থবছরে সেই অডিট আপত্তির নিস্পত্তি ঘটায়। কিন্তু সিবিএ নেতারা এ ক্ষেত্রে নানা জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের চাঁদা প্রদানে চাপ সৃষ্টি করছে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ,সিবিএ নেতাদের দাবি ২০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি নিস্পত্তিতে ১ কোটি টাকা প্রয়োজন। আর তা শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করতে তৎপর হয়ে উঠেছে কতিপয় সিবিএ নেতারা। বিষয়টি নিয়ে খোদ সিবিএ‘র অনেক নেতাদের মাঝেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা অডিট আপত্তি নিস্পত্তির জন্য টাকা দিতে নারাজ হলে ভিন্ন কৌশল বের করে তারা। শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে গণহারে ঋণ নিতে শ্রমিকদের বাধ্য করা হচ্ছে। সেখান থেকে ধার্য্যকৃত টাকার ব্রেয়ার চেক সিবিএ‘র কাছে প্রদান করতে বলা হয়েছে। অভিযোগের তীর সিবিএ‘র বর্তমান নেতাদের পাশাপাশি কারখানার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও। সরকার অনাপত্তির মাধ্যমে সমাধান করে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তির অপতৎপরতায় জিম্মি হয়ে পড়েছে সিইউএফএলের শত শত শ্রমিক-কর্মচারী। তাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে সেই অনাপত্তির চাঁদা সংগ্রহের নামে কোটি টাকার বোঝা।

এদিকে চাঁদার হাত থেকে কোন কোন অফিসার,সাবেক সিবিএ নেতা বা শ্রমিকলীগ নেতাকর্মীসহ অসুস্থ কেউও রক্ষা পাচ্ছে না। তবে এ নিয়ে নিরব ক্ষোভে ফুসে উঠছে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিইউএফএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মো.আলম মজুমদার অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এছাড়া অডিট আপত্তি নিস্পত্তির পাশাপাশি আপদকালীন ফান্ডের কথা বলে নিরীহ শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও জানান কারখানার শ্রমিক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, একজন অসুস্থ শ্রমিকের জন্য সবার কাছ থেকে বেসিক অনুযায়ী ৫% হারে চাঁদা নির্ধারণ করেছে। মানবিক কাজে সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করবে এটি নিয়ম। কিন্তু সিবিএ নেতারা নিয়ম ভেঙ্গে জনপ্রতি নির্দিষ্ট অংশ চাপিয়ে দিয়েছে।

কারখানার হিসাব বিভাগের উপ-প্রধান (ডিসিএ) সালাহ উদ্দিন আহমেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। একইভাবে সিইউএফএল‘র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস তিনিও এ ব্যাপারে কোন কিছু বলতে রাজি হননি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.