আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে ট্রাম্পের দেওয়া স্বীকৃতির প্রতিবাদে এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাসহ গোটা বিশ্বে বিক্ষোভ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার দেশে দেশে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে পড়েন। এদিন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনীর সংঘর্ষে কমপক্ষে দেড় শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। আর ট্রাম্পের ঘোষণার পর এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, রোববার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শহরের সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও স্কয়ারগুলোতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। এ সময় তাদের হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা ছিল এবং তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন।
এর আগে গত বুধবার এক ঘোষণায় জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমের স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। এরপরই বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠে। বিশ্বনেতারা নানা প্রতিক্রিয়া জানান। সেইসঙ্গে ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পঞ্চম দিনের মতো সেখানে চলছে উত্তেজনা।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, রোববার পশ্চিম তীর, জেরুজালেম ও গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৫৭ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলিদের বিমান ও ট্যাঙ্ক হামলায় এ পর্যন্ত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা এ সময় রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকা পোড়ায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। পুলিশও তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
আরব লীগের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা রোববার জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছেন। তাতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রতি নিন্দা জানাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১৮টি দেশ নিয়ে গঠিত এ সংস্থাটি।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় মার্কিন দূতাবাসের বাইরে রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং তাদের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখা ব্যানার ছিল।
এ ছাড়া জাকার্তায় নারীদের একটি বিক্ষোভ হয়েছে। তারা ট্রাম্পকে তার মাথা খাটিয়ে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান। এমনকি বৃহস্পতিবার তিনি দেশটির মার্কিন দূতাবাসকে তলব করার নির্দেশ দেন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে রাস্তায় নামেন। এ সময় শহরের ইয়েনিকাপি স্কয়ার তুর্কি ও ফিলিস্তিনি পতাকায় ছেয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অন্যতম সমালোচনাকারী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অকার্যকর’ বলে অভিহিত করেন এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে আগামী বুধবার তিনি মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন।
