ফেসবুকে সুন্দরী তাহমিনার প্রতারনা ফাঁস

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চট্টগ্রামের সুন্দরী তাহমিনার প্রতারণা ফাঁস হলো। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তদন্তে ফেসবুকের প্রতারণার মাধ্যমে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার এক নারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফ্রান্সের নাগরিকের কাছ থেকে ইউরো হাতিয়ে নেয়ার বেরিয়ে আসল ।

এ কারণে ওই নারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বর্তমানে ওই নারী কারাগারে আছেন বলে জানা গেছে। গত ২১ জানুয়ারি মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রতারক নারীর নাম তাহমিনা। বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সামদার পাড়ায়। বিবাহিত ও দুই সন্তানের জননী। স্বামী থাকে প্রবাসে।

তাহমিনা সন্তান নিয়ে থাকেন নগরীর চকবাজার এলাকায়। নিজের সাংসারিক পরিচয় গোপন করে ফেসবুকের মাধ্যমে ফ্রান্স প্রবাসী ফরিদপুরের স্বপন কুমার দাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তাহমিনা। বিয়ের কথা বলে জমি কেনাসহ নানান বাহানায় স্বপনের কাছ থেকে টাকা নিতে থাকেন তিনি।

এদিকে স্বপনও বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। তাহমিনাকে বিয়ের জন্য ধর্মান্তরিতও হন। কিন্তু পরে তাহমিনার কাছ থেকে প্রতারণার শিকার হন স্বপন। বিয়ের প্রলোভনে স্বপনের কাছ থেকে ৪,৫৬০ ইউরো (৪ লাখ টাকা) হাতিয়ে নেন তাহমিনা।

স্বপন দাশের পক্ষে মুখ্য মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে প্রতারণার মামলা করেন মুহাম্মদ মহসিন নামে একজন। মামলায় আসামি করা হয়েছে তাহমিনা আক্তার, ভাই নবাব মিয়া ও সেলিম মিয়া এবং স্বামী আবদুর রহিমকে। পরে আদালত মামলার তদন্তভার দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে। পিবিআই কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম তদন্তে প্রতারণার সত্যতা পান।

পিবিআই এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত শুধু তাহমিনা। এ কারনে বাকিদের অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট জারি করা হয় তাহমিনার বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি রাত দেড়টার দিকে চকবাজারের বাসা থেকে তাহমিনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে উপস্থাপন করে জামিনের আবেদন জানান তার আইনজীবী। কিন্তু এ নিয়ে বিস্তারিত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত।
ফরিদপুরের ছেলে স্বপন কুমার দাশ জীবিকার সন্ধানে প্যারিসে যান। ২০০২ সালে লাভ করেন ফ্রান্সের নাগরিকত্ব। এরপর বিয়ে করে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন ।

গত ২০১০ সালে মারা যান তার স্ত্রী মিসিল। এর পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পঙ্গুত্ব বরণ করেন স্বপন। এর মধ্যেই ফেসবুকের মাধ্যমে তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। এ সম্পর্কের সূত্র ধরেই এ প্রতারনার ঘটনা সংঘটিত হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.