চট্টগ্রামে উজ্জীবিত বিএনপি

0

গোলাম শরীফ টিটু,সিটি নিউজ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সহযোগী সংগঠনের মহানগর থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণ জেলার মধ্যে অভ্যন্তরীর গ্রুপিং-বিরোধ ছিল তুঙ্গে। একাধিক গ্রুপে বিভক্ত ছিল থানা থেকে জেলা পর্যন্ত। এসব কারনে সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসুচীতেও বিভক্তি ছিল দলটির প্রতিটি ইউনিটে। তবে বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরনের পর থেকে দলটির মধ্যে ঐক্যের সুর বইতে শুরু করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,’ বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি অনেক শক্ত। কোন বিভেদ বা বিরোধ সংগঠনে এই মুহুর্তে নেই।

ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রামে এগিয়ে আসছে সবাই। আজ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসুচী পালন করতে পারছে না। গণতান্ত্রিক পরিবেশে কথা বলার সুযোগ নেই। রাস্তায় নামলেই হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। এর মধ্যেও বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের আপামর জনসাধারণ বিএনপির সাথে আছে। নমনীয়তার নীতিতে চলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে কর্মসুচীতে উপস্থিতির সংখ্যা। নিয়মিত সভা-সমাবেশে উপস্থিত হচ্ছেন প্রায় নেতা। ১লা এপ্রিল রোববার সকালে নগরীর কাজীর দেউরী মোড়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত লিফলেট বিতরণ করেছেন।

সরকারের কঠোরতার মধ্যেও স্বত:স্ফুর্তভাবে কর্মসুচীতে অংশ নিচ্ছেন তারা। এতে দলীয় শক্তি বাড়ছে বলে মনে করেন উর্ধ্বতন নেতারা। কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে এখন অনেক শক্ত অবস্থানে আছে। সব ধরনের দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া জনগন মানতে পারে না। যার কারণে আন্দোলনে দিন দিন সাধারন মানুষের অংশগ্রহন বাড়ছে। আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এক সময় এই ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটবে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যায় ৮ ফেব্রুয়ারী। একই দিন চট্টগ্রামে গ্রেফতার হন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

গত কয়েক বছরে ডা. শাহাদাতের আহবান ছাড়া বড় কোন কর্মসুচী পালন করতে পারেনি দলটি। নগরের প্রধান নেতাকে গ্রেফতারে দল নেতৃত্বহীন হয়ে পড়বে এমনটাই ধারনা ছিল সবার। কিন্তু নগর সভাপতিকে গ্রেফতারের পরও থমকে থাকেনি দলটির কার্যক্রম। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে জোরালো হতে থাকে কর্মসুচী। গ্রেফতারের ভয়কে প্রতিহত করে নেতাকর্মীরা জোরালোভাবে কর্মসুচীতে অংশ নিতে থাকে। শুধু বিএনপি নেতাকর্মী নয়, সমর্থকদের মাঝেও বিভিন্ন কর্মসুচীতে উপস্থিতি বেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রত্যেকটা কর্মসুচীতে জমায়েত যেমন বেড়েছে তেমনি ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থানও নিয়েছিল দলটির নেতারা। নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্ত।

নেত্রীর প্রতি সবার ভালবাসা আছে, সবাই তাই আন্দোলনে নেমেছে। আস্তে আস্তে আন্দোলনের কাতার আরও বড় হচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নেবে। কোন ধরনের কোন্দল বিভেদ বিএনপিতে এখন নেই। ঐক্যবদ্ধভাবেই সকল কর্মসুচী সফলভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই বিষয়ে কথা হলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দলের সাংগঠনিক অবস্থা অনেক ভাল। নেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সাজানো রায়ের পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃঢ প্রতিরোধের মনোভাব জেগেছে।

প্রত্যেক উপজেলায় শান্তিপুর্ন কর্মসুচী পালন করা হয়েছে। কোন ধরনের বিরোধ এখন নেই। নেত্রীর মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীর আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ। দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক কামরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন,’ দিন দিন বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। দলের মধ্যে কোন বিভেদ নেই।

নেত্রীকে গ্রেফতারের পর দলের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়েছে। কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসুচী পালন করা হচ্ছে। বিএনপির প্রতিটি কর্মসুচী পালনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতো অভ্যন্তরীন বিরোধ। তবে বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে হঠাৎ করে পাল্টে যেতে শুরু করে সেই চিত্র। কোন্দল ছেড়ে একই কাতারে আসে নেতারা।

সাবেক ড্যাব সভাপতি ও উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক ডা, খুরশিদ জামিল চৌধুরী বলেন, দেশ নেত্রীকে ভুয়া মামলায় গ্রেফতারের পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য বেড়েছে। উপদলের নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ। আগের তুলনায় আন্দোলনে জমায়েত অনেক বেড়েছে। বিএনপির দলীয় সুত্র মতে,’ দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহন বেড়েছে কর্মসুচীতে। গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব ভুলে রাজপথে সম্মিলন ঘটেছে বিভিন্ন গ্রুপের নেতাদের। নগরীর নাসিমন ভবন এলাকায় ছাত্রলদলের নোমান ও আমীর খসরু মতাদর্শের নেতাদের এক সঙ্গে দেখা গেছে। নগরীর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে এসেছে কর্মচঞ্চলতা।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.