সিটি নিউজ ডেস্ক :: ব্রিটিশ হোম মিনিস্ট্রির সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাত দিন অবস্থান করলেও তারেক রহমানকে দেশে আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্ যালয়ের নিচে আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়ার কারা ও রোগ মুক্তি কামনায় জাতীয়তাবাদী মহিলাদল এ দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যে কোনো মূল্যে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘পাসপোর্ট না থাকলেও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে গিয়ে আবোল-তাবোল বলেছেন। তিনি নাকি যে কোনো মূল্যে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনবেন। আমরা বলতে চাই, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি ব্রিটিশ হোম মিনিস্ট্রির সামনে সাত দিন অবস্থান করেন, তাহলেও ব্রিটিশ সরকারের আইন অনুযায়ী তারেক রহমানকে দেশে পাঠানো যাবে না।’
‘সেই দেশে আইন কানুন আছে। তারেক রহমান ব্রিটিশ আইন মোতাবেকই লন্ডনে অবস্থান করছেন’— বলেন সাবেক এই মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশে তারেক রহমানের শাস্তি হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার তাকে সহ্য করতে পারে না। এই কারণে তারেক রহমান ব্রিটেন সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকলে পাসপোর্ট ওই দেশের হোম-মিনিস্ট্রিতে জমা রাখতে হয়। আর তাকে একটা ট্রাভেলস ডকুমেন্ট দেয়—এটা নিয়ম।’
তিনটি আলাদা আলাদা বিষয় বিবেচনা করে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয় উল্লেখ করে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি যতদিন না হোম মিনিস্ট্রিকে বলবে, তার নিজের দেশে যাওয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছে ততো দিন পর্যন্ত তাকে কেউ ফেরত পাঠাতে পারবে না। তার আগে কারো কোনো ক্ষমতা নাই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার।’
‘আজ প্রধানমন্ত্রী যে কোনো মূল্যে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চান— আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, তারেক রহমান যেদিন বলবেন, আমি বাংলাদেশে যাব, বাংলাদেশ আমার জন্য নিরাপদ, সেদিন আনতে পারবেন। শেখ হাসিনা যেভাবে আনতে চান সেভাবে কখনো তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো সম্ভব হবে না’— বলেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।
খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসূত্রে গাঁথা দাবি করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা জানি দেশনেত্রী এবং বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচনের নীলনকশা করছে সরকার। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আমাদের নেত্রী বিনা কারণে জেলে। আমাদের নেতাদের প্রত্যেক দিন আদালতের কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়াতে হয়। আমরা বলতে চাই, আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো হবে না। আগামী নির্বাচন অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। আর বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না।’
দোয়া অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।
