নিজস্ব প্রতিবেদক:: নগরীর হালিশহর থানাধীন শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং, ৪র্থ তলা/ফ্লাট নং-ঋ-৪ই এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৩ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (বন্দর)পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় হলো, আশরাফ আলী(৪৭), মো. হাসান(২২), উভয় পিতা-মৃত তৈয়ব, মাতা-মৃত দিল বাহার, সাং-গিলাতলী (হাসান এর বাড়ী), থানা-নাইক্ষংছড়ি, জেলা-বান্দরবান, বর্তমানে-জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং, ৪র্থ তলা/বাসা নং-ঋ-৪ই, মসজিদের পাশের্^, শ্যামলী আবাসিক, শান্তিবাগ, থানা-হালিশহর, জেলা-চট্টগ্রাম।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল হালিশহর থানাধীন শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং, ৪র্থ তলা/ফ্লাট নং-ঋ-৪ই এ রাত ১০.৪০ হতে রাত ৩ টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের হেফাজত হতে ২টি বস্তায় ৩০টি বড় প্যাকেটের মধ্যে ৩০০০০০ (তিন লক্ষ) ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নিচে পার্কিং এ থাকা আসামিদের প্রাইভেটকার চট্টমেট্রো-গ-১১-৫৯২৪ হতে ৫টি বস্তায় ১০০(একশত) টি বড় প্যাকেটের মধ্যে ১০,০০০০০ (দশ লক্ষ) ইয়াবা ট্যাবলেট, সর্বমোট ১৩,০০০০০ (তের লক্ষ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলোর ওজন অনুমান ১৩০ কেজি যাহার মূল্য অানুমানিক ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) কোটি টাকা।
আসামী আশরাফ আলী(৪৭),মো. হাসান(২২) উভয়ে আপন সহোদর ভাই। আশরাফ আলী ১৯৯৮ সাল হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ছিল। সৌদি আরবে থাকাকালীন সময় রোহিঙ্গা আব্দুর রহিমের সাথে পরিচয় হয়। বার্মার নাগরিক রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম বার্মার নাগরিক লা-মিম এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। গত ৭ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ আসামি আশরাফ আলী সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসে।
রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম এর সাথে যোগাযোগ করে বেশ কয়েকবার বার্মা হতে ইয়াবা ট্যাবলেট সমুদ্র যোগে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল।
গত ০৭ এপ্রিল বিমান যোগে আসামী আশরাফ আলী ঢাকা হতে রেংগুন যায়। রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম সহ রেংগুনে হোটেল এলিমিউন এ অবস্থান করে। বার্মার নাগরিক লা-মিম এর নিকট হতে ইয়াবা সংগ্রহ করার পর সাগর উত্তাল থাকায় রওয়ানা দিতে বিলম্ব করে।
গত ৩০ এপ্রিল রেংগুন হতে একটি ট্রলার ও স্পীড বোড সহ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়া রওয়ানা হয়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রে ট্রলার হতে ইয়াবা ট্যাবলেট গুলো স্পীড বোটে স্থানাস্তর করে আসামী আশরাফ আলী নিজেই স্পীড বোট চালিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।
পথিমধ্যে কুতুবদিয়া চ্যানেল এ ঝড়ে কবলে পড়ে স্পীড বোড উল্টে গেলে স্থানীয় মাছ ধরা ট্রলারদের সহায়তায় ইয়াবা ট্যাবলেট এর বস্তাগুলো উদ্ধার করে। মাছ ধরা ট্রলার এর মাঝিকে বিভিন্ন কসমেটিক্স বার্মা হতে আনছে বলে জানায়। মাছ ধরা ট্রলারের সহায়তায় ইয়াবা ট্যাবলেট সমূহ ০২ মে ভাটিয়ালী জেলে পাড়া ঘাটে নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসি মইনুল ইসলাম জানান, সিএমপির জব্দ করা ইয়াবার চালানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
