নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার উপর আজ চরমভাবে অমানবিক, নিষ্ঠুর, নির্মম আচরণ করছে এই অবৈধ হাসিনা সরকার। জিয়া অরফানেজ চ্যারিট্যাবলের ২ কোটি ৭ লক্ষ টাকা যা বর্তমানে ৭ কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে। কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা আজ দেশ জাতি জানতে চায়? শুধুমাত্র লেনদেনের পদ্ধতিগত ত্র“টির অজুহাত দেখিয়ে নিরাপরাধ স্বাধীনতা, সার্বভৌম, গণতন্ত্রের পাহারাদার বাংলাদেশের মাটি মানুষের ভালবাসার প্রতীক খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে সরকার সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট, ভিত্তিহীন মামলা লিপিবদ্ধ করে সাজা দিয়ে কারাগারে রেখে অ-মানুষিক নির্যাতন চালিয়ে মেরে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
সোমবার (২১মে) দলীয় কার্যালয়ে নাসিমন ভবনের সম্মুখস্থ নূর আহমদ সড়কে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শহীদ জিয়া শিশু কিশোর ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম মহনগর, উত্তর, দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে আয়োাজিত মানববন্ধনে প্রধান অথিতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকার ৫ জানুয়ারির মত ভোটারবিহীন আরও একটি বাকশাল মার্কা নির্বাচন করে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এদেশের জনগণ অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষা করার লক্ষে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের হীন ষড়যন্ত্র ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রতিহত করবে। সরকারের মন্ত্রী এমপিরা জনগণের মাঝে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে বলছে শহীদ জিয়ার পরিবার দুর্নীতি করেছে, কোথায় দুর্নীতি হল? পক্ষান্তরে এই সরকারের শাসন আমলে ৬ লক্ষ ৬ হাজর কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। শেয়ার বাজার, ইউনিফে টু, স্পিক এশিয়া, ডেসটিনি বাংলাদেশ, এম এল এম নামে হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট হয়েছে, যারা এই লুটপাটের সাথে জড়িত তারা আজ ধরা ছোয়ার বাইরে তাদেরকে আজ পর্যন্ত বিচারের আওতায় আনা হয়নি। সরকারের মন্ত্রী এমপি ও আত্মীয় স্বজনেরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তাতে সরকারের কোন মাথা ব্যাথা নেই। প্রতিনিয়ত মেঘা প্রকল্পের নামে নতুন নতুন প্রকল্প তৈরী করে জনগণের ঘাম জরানো হাজার কোটি টাকা সরকারের মন্ত্রী এমপিরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটপাট করেই যাচ্ছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের সিংহ ভাগ চট্টগ্রাম থেকে যোগান দেয়া হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সরকারের বিমাতা সুলভ আচরণ আর মেনে নেয়া যায় না। চট্টগ্রাম শহরের একটি রাস্তাও চলাচলের উপযোগী নয়। আজ চট্টগ্রামের সেই ঐতিহ্যবাহী প্রাচ্যের রাণীকে এতিমখানায় পরিণত করেছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। তিনি
প্রধান বক্তা হিসেবে শহীদ জিয়া শিশু কিশোর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা এম এ হাশেম রাজু বলেন, দেশ ও জাতীকে ধ্বংস না করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে অর্জিত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষে অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। জনগণের মনের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন। অন্যথায় দেশ ও জাতী হাসিনা সরকারকে ক্ষমা করবে না।
শহীদ জিয়া শিশু কিশোর ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ভার প্রাপ্ত সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন সাহেদ ও আবু ছৈয়দ রাসেলের যৌথ পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, নগর বিএনপির উপদেষ্টা সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহ- তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আলমগীর নুর, নগর ছাত্রদল সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, সংগঠনের উত্তর জেলার সভাপতি আলহাজ¦ নুরুল হাকীম লোকমান, দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহবায়ক মো: নওশা মিঞা, আলহাজ¦ নুর মোহাম্মদ, বিএনপি নেতা মো: ইউসুফ, নুরু নবী, মো: ফিরোজ চৌধুরী, ওমর ফারুক, এস এম মামুন, মো: শাহজাহান, জয়নাল আবেদীন, রিদুয়ান আলী, এমদাদ হোসেন, জসিম উদ্দিন, খোরশেদ আলম, মো: সালাউদ্দিন, মো: বাদশা, শিশু কিশোরদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জোসনা আক্তার, ছৈয়দা শমরিতা আক্তার উর্মি প্রমূখ। উল্লেখ্য এই অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিএমপি পুলিশ কর্তৃক বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে দলীয় কার্যালয়ের সম্মুখে মানববন্ধন কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
