সিটিনিউজ ডেস্ক:: সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে পড়া মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে সরকার যে ‘প্রক্রিয়া’ অবলম্বন করছে, তার সমালোচনা এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।
মাদকের উৎস বন্ধ করা না গেলে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট।
আজ বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্শিয়া বার্নিকাট এই মন্তব্য করেন।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা এই বৈঠক হয়। এরপর মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে বার্নিকাট কথা বলেন।
সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গত ১৬ দিনে ১২০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্যের আত্মীয় থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাও রয়েছেন। আটক হয়েছেন শত শত মানুষ।
গোয়েন্দা বাহিনীর তৈরি করা তালিকা ধরে এ অভিযান চলছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হলেও বিনা বিচারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মানুষ হত্যার ঘটনায় এর আগেও সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকেও এ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, রাঘববোয়ালদের না ধরে চুনোপুঁটিদের ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হচ্ছে।
আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে অভিযানের সময় শত শত নারী-পুরুষকে আটক করা নিয়ে ‘গ্রেপ্তার বাণিজ্যের’ অভিযোগ থাকলেও সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেছিলেন, ‘কোনো ক্রসফায়ার হচ্ছে না, যা হচ্ছে তা বন্দুকযুদ্ধ।’
এ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট বলেন, ‘বাংলাদেশে এই মাদকবিরোধী অভিযানে যাঁরা নিহত এবং আটক হচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই আইনি সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’
‘বিনা বিচারে একটা লোক মারা যাওয়ার অর্থ হলো একটি পরিবার শেষ হয়ে যাওয়া।’
‘মাদক কারবারের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের আইনের আওতায় না এনে, মাদকের উৎস বন্ধ না করে এই মাদকবিরোধী অভিযান থেকে সাফল্য আসবে না’ বলেও মনে করেন প্রভাবশালী দেশের এ কূটনীতিক।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সরকারও (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার) বাংলাদেশ সরকারের মতো জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরাও এই কথাগুলো বলে আসছেন। মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সবার অঙ্গীকার। কিন্তু সেইটা হতে হবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।’
