দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনাল ও নিবাস নির্মাণ করবে চসিক
চট্টগ্রাম অফিসঃ নগরীর যানজট নিরসন, নাগরিক ভোগান্তি রোধ ও যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কুলগাঁও বাস টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচ্ছন্নকর্মী সেবকদের জন্য স্থায়ী নিবাস নির্মাণ করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
বাস টার্মিনাল নির্মাণসহ নগরীর কাঁচা রাস্তার উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নকর্মীর নিবাস নির্মাণসহ ২টি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে। প্রকল্প ২টির প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪’শ ৬৪ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে বাস টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় করা হবে ১২’শ ৩০ কোটি ৭৩ লক্ষ এবং নিবাস নির্মাণে ব্যয় হবে ২’শ ৩৩ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন আজ বুধবার সকালে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৫ম পরিষদের ৩৫ তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
বাস টার্মিনালটি নির্মিত হলে নগরে চলাচলরত বাস, ট্রাকগুলো একট স্থায়ী জায়গায় রাখা ও পার্কিং এর ব্যবস্থা হবে। এতে করে যানজটও কমে আসবে বলে আশা করা যায়। অপরদিকে দরিদ্র সেবকদের জন্য পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস নির্মিত হলে কর্পোরেশনের কর্মরত পরিচ্ছন্নকর্মী ও সেবকদের জীবনমানের উন্নতি হবে।
এ ছাড়াও সভায় নির্বাচিত পরিষদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, অফিসিয়াল কাউন্সিলর, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন চসিকের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন।
সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিগন স্ব-স্ব স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরনী উপস্থাপন করেন। সিটি মেয়র বলেন, রাস্তায় যত্রতত্র ফিটনেস বিহীন টেম্পু চলাচলের অনুমোদন থাকায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি জনস্বার্থে এসকল অনুমোদনবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে বিআরটিএ ও মেট্রোপলিটন পুলিশককে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
সভায় মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচিত পরিষদের ৩ বছর পুর্তি উপলক্ষে আগামী ২৫ জুলাই এর মধ্যে স্ব-স্ব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগনকে কর্পোরেশনের বাস্তবায়নকৃত ওয়ার্ড ভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সচিত্র প্রতিবেদন নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরার আহবান জানান।
সিটি মেয়র আলোকায়নের লক্ষ্যে নগরীর সড়ক সমূহে ৮০হাজার এলইডি সড়কবাতি লাগানো হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় আগামী ২ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান ।
এছাড়াও গ্রীণ ও ক্লীন সিটি বাস্তবায়নে ওয়ার্ড অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যন্য ভবনের ছাদে ‘ছাদ-বাগান’,প্রকল্প বাস্তবায়ন, অন-লাইনে জম্ম নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তি সহজীকরণ, বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কার্যক্রমের সাথে যেসব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জড়িত তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে শিঘ্রই একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নগর উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করা হয়। সভায় সদ্য প্রয়াত নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা, দেশ-জাতি ও চট্টগ্রামের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুন উর রশিদ।
এদিকে সাম্প্রতিক অতিবর্ষণে নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। আজ বুধবার ( ২০ জুন ) থেকে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব এ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট ব্যবহারের মাধ্যমে কর্পোরেশনের ৯টি ডিভিশন এই কাজ করছে।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সমূহ চলাচলের উপযোগী করা যাবে বলে আশা করা যায়। এ কর্মকান্ডে সার্বক্ষনিকভাবে কর্পোরেশনের নিজস্ব কর্মীসহ ২৫০ জন শ্রমিক কাজ করছে।
সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে চলমান সড়ক মেরামতের কাজ যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তদারকির নির্দেশ দেন ।
