আন্দোলনকারী লুৎফুন্নাহার লিনা এবং লুবনা কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের ভাইদের গায়ে হাত তুলেছে, মারধর করেছে। তারপরও কেউ তাদের ঠেকাতে আসে নাই। দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, আমরাও নারী। আমাদের গায়ে হাত তোলা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানকেও ক্ষুণ্ণ করে।’
এদের একজন অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের এসব নেতা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুককে তুলে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘‘তারা ফারুক ভাইকে প্রচুর মেরেছে। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। তাকে হসপিটালের সামনে থেকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে গেছে। আমরা যখন জিজ্ঞেস করলাম তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?’ তারা বলে, ‘আমরা ফারুক ভাইয়ের হলের ছোটভাই। হলে নিয়ে যাচ্ছি।’ তখন তারা আমাদের বলে, ‘তোরা কে? তুই এখানে কেন আসছিস?’’
ছাত্রলীগ নেতারা আন্দোলনরত মেয়েদের প্রকাশ্যে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে তাদের একজন বলেছেন, ‘এখন তারা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। এখন তারা বলে ছেলেদের গুম করে দেওয়া হবে। তারা এত বড় সাহস কোথায় পাচ্ছে? তারা বলে, আমরা নাকি তাদের ওয়াইফ। এগুলো কী ধরনের কথা?’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুককে মারধরের সময় আন্দোলনরত মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ করে এই দুই নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘তারা (ছাত্রলীগ নেতারা) গায়ে হাত দিয়েছে, তারা ধাক্কাধাকি করে আমাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেছে, তারা তুই করে কথা বলতেছে। তারা এমন বেয়াদব, একটা মেয়ের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় ন্যূনতম সেটাও জানে না। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন মেয়ে , বিরোধীদলীয় নেত্রী মেয়ে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেয়ের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো কেন?’
কারা হামলা করেছে জানতে চাইলে তারা বলেন, হামলাকারীদের তারা চেনেন কিন্তু নাম জানেন না। নারীদের একজন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি আসলে নাম বলতে পারবো না। তারা ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের নেতা। মোটরসাইকেলে এখানে এসেছিল।’
তারা আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মতো একটি যৌক্তিক আন্দোলনকে ছাত্রলীগ দিয়ে প্রতিহত করা যাবে না।
