২০২০-২১ সালকে মুজিব বর্ষ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত
সিটি নিউজ ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তৃণমূল মানুষের জন্য কাজ করাই হলো আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশ এগিয়ে চলেছে, এই এগিয়ে যাওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, দেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে নতুন ঘর করে দেয়ার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ এবং ২০২১ সালকে মুজিব বর্ষ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
আজ শুক্রবার ( ৬ জুলািই ) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলের নয়া ভবনে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করেছি ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালন করবো, এই সময়ের মধ্যেই আমরা দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। তিনি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণকে ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।
সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তার শাসনামলে দেশের সকল প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে।
আমরা দেশে ১০০টি শিল্পাঞ্চল করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কোথায় কোন স্থানে কোন ধরনের কাঁচামাল পাওয়া যায় সেই স্থানে সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হবে। এসব স্থানে শিল্প স্থাপন হলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট বই আকারে প্রকাশ করা হবে। ৪৭টি ফাইলের এ রিপোর্ট ১৪টি ভলিয়মে প্রকাশ করা হবে বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা আমরা প্রকাশ করেছি। এখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার যে রিপোর্ট রয়েছে তার ৪৭টি ফাইল আমাদের কাছে আছে। এটা আমরা প্রকাশ করবো। হাজার হাজার পাতার সেই ফাইল একটা ইতিহাস।
এই ফাইলগুলোর ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাতা হবে। সেখান থেকে বেছে ৯ হাজার পাতায় আনা হয়েছে। ১৪টি ভলিউমে এগুলো প্রকাশ করা হবে। প্রথম ভলিউমের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট পড়লেই বাংলাদেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা জানা যাবে, বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথাও জানা যাবে। এতো বড় গোয়েন্দা রিপোর্ট পৃথিবীর অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
এছাড়া আমরা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আগরতলা মামলার নথিও আমাদের কাছে আছে। আরেকটি লেখা আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা। এই লেখাটিও আমরা প্রস্তুত করছি, এটাও প্রকাশ করতে পারবো।
