নিজস্ব প্রতিবেদক:: বর্তমান সরকার তৃণমূলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ), গণশুণাণী, জেলা উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভার আয়োজন সহ সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা দ্বিগুন করলেও টিআইবি ২০১৭ সালে খানা জরিপে আইনশৃংখলা বাহিনী সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এ তালিকায় সরকারী অন্যান্য সেবা সংস্থা পাসপোর্ট, ভুমি, বিআরটিএ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস খাতে দুর্নীতির শিকারের হার কম নয়। অন্যদিকে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন ৫০% শতাংশ সরকারী চিকিৎসক কাজ না করে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। বর্তমান সরকারের অনেকগুলি প্রচেষ্টার ফলে দেশ নিন্মমধ্যবিত্ত আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উপনীত হবার প্রক্রিয়া শুরু করলেও সরকারী সেবা সংস্থা গুলির স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পরিমাপ যদি এ অবস্থা হয় তাহলে সরকারে সে প্রচেষ্টা সফল হতে কঠিন পরীক্ষায় উপনীত হতে হবে। তাই সরকারী সেবা সংস্থাগুলির সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রমে সাধারণ জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পাঁচলাইশ থানা কমিটি। ৩০ আগষ্ঠ ২০১৮ইং চান্দগাঁওস্থ ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় মিলনায়তনে ক্যাব চট্টগ্রাম এর পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে ক্যাব পাচঁলাইশ কমিটির সভায় বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
ক্যাব পাচলাইশ থানা কমিটির সহ-সভাপতি ও নারী নেত্রী সায়মা হকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী। ক্যাব আইবিপি প্রজেক্ট এর ক্যাব চট্টগ্রামের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনায় অংশনেন ক্যাব নেতা আবুল কাসেম, সেলিম জাহাঙ্গীর, সাকিল আহমদ মুন্না, মুক্তি শেখ মুক্তি, রেশমী আক্তার, অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দীন ও অ্যাডভোকেট আসমা খানম প্রমুখ।
বক্তাগন অভিযোগ করেন সত্যিকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরে গনতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলন যেমনি অপরিহার্য তেমনি সরকারের বিভিন্ন বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দাবি নামা তুলবে কিন্তু জনগন কাংখিত সেবা পাবে না। তাই জনগনকে যেভাবে আইন ও অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে, তেমনি সরকারী দপ্তরগুলিকেও জনগনের কাংখিত অধিকার ও সেবাগুলি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে সরকারের অনেকগুলি যুগান্তকারী উদ্যোগ জনগনের দোরগোড়ায় পৌছাবে না। সরকার জনগনের উন্নয়ন ও সেবার পরিধি বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ ও বিপুল বরাদ্দ দিলেও এখাতে জড়িত সরকারী প্রশাসন যন্ত্রের সাথে জড়িতদের দায়-দায়িত্বহীন কর্মকান্ড, সত্যিকারের জবাবদিহিতার দুর্বলতার কারনে তৃনমূল পর্যায়ে সরকারের সে সমস্ত উদ্যোগ ও বরাদ্দের সুফল জনগন পাচ্ছে না।
