ম্যাক্স হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই !

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চিকিৎসা একটি মহান পেশা। তাই চিকিৎসকদের আরো দায়িত্ববান ও আন্তরিক হতে হবে। সেইসঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো সতর্ক হতে হবে। তাদের অবহেলা কিংবা ভুলে ঝরে যে কোনো সময় যেতে পারে রোগীর প্রাণ। এভাবেই ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সদের অবহেলা ও ভুলের কারণে গত ২৯ জুন আড়াই বছরের শিশু কন্যা রাইফার অকাল মৃত্যু হয়েছে। ওই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।

শনিবার ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সেমিনারে বক্তারা এসব বলেন।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে শোভাযাত্রা ও ফিজিওথেরাপি সচেতনতা বিষয়ক সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ফিজিওথেরাপি।’

চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে ওই র আয়োজন করা হয়। সেমিনারে বারবার আলোচনায় উঠে আসে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় শিশু কন্যা রাফিদা খান রাইফার অকাল মৃত্যুর প্রসঙ্গটি।

চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ওই সেমিনারে বক্তারা চিকিৎসা সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরো আন্তরিক ও সতর্ক হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ম্যাক্স হাসপাতালে ডিপ্লোমাধারী কোন নার্স নেই। অবশ্য শুধু এই ম্যাক্স হাসপাতালেই নয়, চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় সবক’টিরই একই অবস্থা। এই বেসরকারি হাসপাতালগুলোর আইসিইউ ও সিসিইউতে বিপিটি ডিগ্রিপ্রাপ্ত কোনো ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক নেই। অথচ, এমন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক সেখানে খুবই জরুরি।

বিশেষ করে বাত, ব্যাথা ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রোগীদেরকে মানসম্মত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন এই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকগণ। সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, কোনো চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা করার কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে বিএমএ নেতারা ওই চিকিৎসকে বাঁচানোর জন্য উঠে পড়ে লেগে যান।

অথচ, তাদের উচিৎ যেসব চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু হলো, এরফলে চিকিৎসা পেশার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট সৃষ্টি হলো, সেই চিকিৎসকগণের পক্ষ না নিয়ে তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেয়া। তা না করে বিএমএ নেতারা উল্টো কাজটিই বারবার করছেন।

সেমিনারে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিপিটি ডিগ্রিপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার এবং যত্রতত্র প্রতারক চক্র দ্বারা গজিয়ে উঠা ভুয়া ফিজিওথেরাপি সেন্টারের ব্যাপারে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহবান জানানো হয়।
ফিজিওথেরাপি সচেতনতা বিষয়ক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদফতর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (উপ-সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

চট্টগ্রাম সাগরিকা রোটারী ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মুনিরুল কুদ্দুস আকবরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,রোটারিয়ান পিপি ও লেখক খনরঞ্জন রায়, মিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল ও ট্রেজারার এমএ জলিল প্রমুখ। এছাড়াও সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাদেকুর রহমান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.