নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন নগরবাসী নাগরিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করলে দেশ আরো অনেক দুর এগিয়ে যাবে। শহরের অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা অন্যতম। এক্ষেত্রে আমাদের যেমন সীমাবদ্ধতা রেয়েছে তেমনি নাগরিক সচেতনতারও অভাব রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেনের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ডোর টু ডোর আবর্জনা সংগ্রহ করার লক্ষ্যে বিন বিতরণ করা হয়।
যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলার জন্য নগরবাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে টানা কয়েক মাস মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। তারপরও নালা-নর্দমায় ময়লা আবর্জনার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়। বাইরের দেশে এ দৃশ্য নাই বললেই চলে। তাই বসতিকে বাসযোগ্য রাখতে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আজ সোমবার সকালে কর্পোরেশনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে বিশ্ব বসতি দিবস-২০১৮এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চট্টগ্রাম অঞ্চল।
এবারের বিশ্ব বিসতি দিবস-২০১৮’র প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পৌর এলাকার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’। প্রতিপাদ্য এই বিষয়ের আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের স্বপ্নের গ্রিন ও ক্লিন সিটি বাস্তবায়নের আলোকে এই দিবসের স্লোগান নির্ধারণ করা হয় ‘নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলি, পরিচ্ছন্ন শহর গড়ি’। সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট ইফতেখার হাসান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর শাসন বিষয়ক গবেষক রায়হান আহমেদ প্রমুখ।
বক্তাদের আলোচনায় প্রতিদিন গড়ে ১ জন ব্যক্তি ৪০০ গ্রাম করে বর্জ্য উৎপাদন করে বলে জানা যায়। এই উৎপাদিত বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে নগরীর জলাবদ্ধতার সমস্যা ৩০ শতাংশ সমাধান হয়ে যাবে বলে তারা উল্লেখ করেন। এতে সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম, আবিদা আজাদসহ আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও কমিউনিটির সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার পূর্বে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে মেয়রের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি চেরাগী পাহাড় মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিন শেষে নগর ভবনে এসে শেষ হয়। র্যালিতে কাউন্সিলর, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, নগর পরিকল্পনাবিদসহ ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কর্মকর্তা ও ব্র্যাক বিভিন্ন কমিউনিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেয়।
