সিটি নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,প্রতিপক্ষের কাছে কৌশলে মার খেতে চায় না আওয়ামী লীগ। তাই একটু ধৈর্য ধরে দলীয় প্রার্থীসহ জোটগতভাবে মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। দলীয়ভাবে যেটা করেছি তা কিন্তু গণমাধ্যমে দিইনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন,আগামী নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহ করলে সে যতই জনপ্রিয় হোক তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে দেয়া হবে। গতকাল বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে কাদের এ হুঁশিয়ারি দেন।
এমন অনেক প্রার্থীর নাম গণমাধ্যমে এসেছে যাদের আমরা চিঠি দিইনি। এটা বিভ্রান্তিকর। অফিশিয়ালি তালিকা প্রকাশের আগে লোকের মুখে শুনে প্রচার করলে তা বিব্রতকর। গণমাধ্যমকে এমন না করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, শরিকদের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে ৬৫-৭০ আসন ছেড়ে দেয়া হবে বলে আবারো জানান।
কাদের বলেন, মনোনয়নের নামে বানরের পিঠা ভাগ করতে চাই না। জাতীয় পার্টি, ১৪ দল, যুক্তফ্রন্ট সব মিলিয়ে ইলেকটেবল-ইলিজিবল প্রার্থী দেয়া হবে। উইনেবল যারা প্রার্থিতার জন্য আবেদন করেছেন, তারাই মনোনয়ন পাবেন। আমরা জেতার জন্য নির্বাচন করছি। গণতন্ত্র নম্বরের লড়াই। কে কত সিট পাবে… সরকার গঠন করতে হলে গণতন্ত্রে মেজরিটি পেতে হবে।
কাজেই সিট কমিয়ে কি টার্গেট নম্বর অর্জন করতে পারব? আমার দলের লোক হোক, শরিক দলের হোক, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয়, যারা জয়লাভ করবেন তাদের বিবেচনায় নিচ্ছি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের মতো এত বড় দলে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকতেই পারে। চিঠির বাইরে কোনো কিছু হবে না।
তবে জোটের কোনো প্রার্থীর যোগ্যতা বেশি থাকলে সেখানে ছাড় দেয়া হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পরিবর্তন করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের দাবির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনের বাকি আর একমাস। এই সময়ে যারা সিইসি বদল চায়, তারা ভোটে যাবে কি-না সন্দেহ আছে। তারা ভোটে যাবে, এই কথা বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হয়।
হেরে যাওয়ার ভয়ে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা বুঝতে পেরেছে তারা জিততে পারবে না। আওয়ামী লীগ দিনে দিনে আরও মডার্ন, স্মার্টার হয়ে নির্বাচন করবে এবং বিজয়ের মাসে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।
