সিটি নিউজ ডেস্কঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন আওয়ামী লীগের ঘরে ঘরে জুয়ার আসর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে উন্নয়ন নয় জুয়ার রোল মডেল করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিলেটে নগরীর রেজিষ্ট্রার মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নগরীর রেজিষ্ট্রার মাঠে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই সমাবেশ শুরু হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ১২ বছর ধরে এদেশে জুয়া চলছে। কিন্তু ধরতে পারে না। আর এখন যখন ধরা পরেছে তখন বলছে, বিএনপির আমল থেকে চলছে। কিন্তু এখন ঘরে ঘরে ক্যাসিনো। আওয়ামী লীগের ঘরে ঘরে জুয়ার আসর। সুতরাং আওয়ামী লীগ যদি শাসন ব্যবস্থায় থাকে তাহলে এদেশ স্বাধীনতা টিকে রাখতে পারবে না। এদেশের মানুষ নিরাপদে থাকবে না।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি চাই, মুক্তি চাই। মুক্তি চাই। প্রতি উত্তরে নেতাকর্মীরা বলেন, মুক্তি চাই। ফখরুল বলেন, তাহলে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হোন।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ৫ শত বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম করেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। আর এই সরকার ২৬ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে এবং আমাদের দেশের অনেক বরণ্য ব্যক্তিদেরকে তারা ফাঁসি দিয়েছে! তাই তারা জনগণের সরকার নয়। তারা জনবিরোধী সরকার। তারা এদেশের অর্জনগুলো এক এক করে ধ্বংস করে ফেলেছে।
সিলেটের সমাবেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হঠাৎ করে তারা (সরকার) এই সমাবেশ বন্ধ করে দিতে চাইলো কেনো? কারণ এর কয়েক দিন আগে সিলেটে ছাত্রদল একটা মিছিল করেছে। সেই মিছিলে হাজার হাজার লোক হয়েছে। সেই ভয়ে। আসলে ভয় পেলে ভয়। আর সভা বন্ধ করার প্রবণতা ভয় থেকেই হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সমাবেশের মঞ্চ ছোট হওয়ার কারণে এর উপরে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। কারণ গতকাল থেকে এ পর্যন্ত তিন বার এই মঞ্চ ভাঙা হয়েছে। আর এই সভা ভঙ্গ করার জন্য গতকাল রাতে ১৬-১৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপরও সিলেটের নেতাকর্মীদের প্রচেষ্টা ও সাহসের কারণে আজকের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। এর অংশ হিসেবে আপনারা গত ৭ দিনের ঘটনা দেখছেন। এর মাধ্যমে থলের কালো বিড়াল বের হয়ে আসছে। তাই এর পিছনে যারা রয়েছে, আমরা তাদের নাম জানতে চাই। শুধু বাংলাদেশ নয়, যারা আমেরিকায় আছে, তাদেরও।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম জিয়া অবশ্যই মুক্ত হয়ে আসবে। আমরা আইনী প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে আমরা সেটা পারি নাই। তাই তার মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ। এই জন্য আপনাদের (বিএনপির নেতাকর্মী) প্রস্তুত হতে হবে।
সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ বেগম জিয়ার মুক্তির চায়। আপনারাও চান। তাহলে বিএনপি রাজপথের আন্দোলনে সূচনা করুক- তাই না? কিন্তু শেখ হাসিনার জন্য বেগম জিয়ার মুক্তি হচ্ছে না। তাহলে সহজ পথ শেখ হাসিনার পতন। আর শেখ হাসিনার পতণের আন্দোলন আপনারা রাজপথের সূচনা করুন।
যাদের কারণে বেগম জিয়া কারাগারে তাদের বিচার একদিন বাংলাদেশের গণআদালতে বিচার হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন গয়েশ্বর।
এদিকে সমাবেশে যোগ দিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে দেখা গেছে। মিছিল থেকে তারা মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইসহ বিভিন্ন স্লোগানে রেজিষ্ট্রার মাঠ মুখরিত করে তুলেন নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে অনেক নাটকিয়তার পর মঙ্গলবার সকালে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পায় বিএনপি। তবে গতকাল (সোমবার) রাতে সভা মঞ্চ খুলে নেয়া হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার সকালে অনুমতি পাওয়ায় পর ফের মঞ্চ নির্মাণ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শায়রুল কবির খানসহ বিএনপির নেতারা। পরে সেখান থেকে নেতাকর্মীরা শহরের অদূরে হজরত শাহ পরাণের (রহ.) মাজারও জিয়ারত করেন।
