বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলেন এম মোরশেদ খান

0

সিটি নিউজঃ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান বিএনপি থেকে পদত্যাগ করছেন। দলের চেয়ারপারসন বরাবরে লেখা পদত্যাগ পত্রটি মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দলের মহাসচিবের কাছে পাঠিয়েছেন।

পদত্যাগ পত্রে শুধু পদত্যাগ নয়, ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি। মহাসচিবের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসনের কাছে পদত্যাগের চিঠি লিখেছেন মোরশেদ খান।

বিএনপি দপ্তর সূত্র জানায়, মোরশেদ খানের ব্যক্তিগত সহকারী আতাউল সন্ধ্যায় ৭টার সময় দলীয় কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র নিয়ে যায়। কিন্তু দপ্তর প্রধান রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ স্কাইপিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। তার বৈঠক শেষ হলে রাত ১০টার দিকে পদত্যাগপত্র দেয়া হয়।

সূত্র মতে, পদত্যাগপত্রে মোরশেদ খান লিখেছেন, ‘আজ অনেকটা দুঃখ ও বেদনাক্লান্ত হৃদয়ে আমার এই পত্রের অবতারণা। মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমার বিবেচনায়, সে ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে।

সাবেক মন্ত্রী মোরশেদ খানের স্ত্রী নাসরীন খান বলেছেন, এক বছর আগেই তাকে এই রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করার জন্য পরিবার থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজনীতিতে এসে জনগণের কল্যাণে ও দেশসেবায় যতটা ভূমিকা রেখেছেন তার মূল্যায়ন কতটা হয়েছে, সেটা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু এ রাজনীতির জন্য গোটা পরিবারকে চড়া মাশুল গুনতে হয়েছে। তিনি রাজনীতিতে আসায় তার পরিবারকে অসহনীয় দুর্ভোগ ও কষ্ট সইতে হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোরশেদ খান আরও লিখেছেন, বিএনপি এবং আপনার যোগ্য নেতৃত্বের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে বর্তমানে দৃঢ় বিশ্বাস দেশের রাজনীতি এবং দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজনের সঙ্গতি নেই। আমার উপলব্ধি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বহু বিচার-বিশ্লেষণে বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রাথমিক সদস্যসহ ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছি। অব্যাহতি দিয়ে বাধিত করবেন।

তবে বিএনপির সাবেক এক নেতা বললেন ভিন্ন কথা, তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলে অবহেলিত ছিলেন মোরশেদ খান। দলের স্থায়ী সদস্য হওয়ার সব যোগ্যতা থাকা সত্বেও কম যোগ্যদের স্থায়ী সদস্যে পদ দেওয়া হয়েছে। এটাও একটা তার মনের ক্ষোভ হতে পারে। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়াও ক্ষোভের এটি বহিপ্রকাশ হতে পারে। কারণ তার আসনে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায় তার কাছে কিছুই না। তদুপরি ব্যবসায়িকভাবে যথেষ্ট ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে রাজনীতি থেকে তিনি কি অবসরে গেলেন নাকি অন্য কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন সেটা সয়মই বলে দিবে।

 

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.