সরকারের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম কেন?
সিটি নিউজ ডেস্কঃ সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী হিসেবে চিহ্নিত রাজাকারদের প্রাথমিক একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ রাজাকারের তালিকায় উটে এসেছে গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার নাম। কিন্তু কেন? এটা কি নিছকই ভূল নাকি ইচ্ছাকৃত? নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরিতার্থ করার জন? সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে ।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা এবং পাকিস্তানিদের দোসর হিসেবে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকা ব্যক্তিদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
রবিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ তালিকা প্রকাশ করেন। প্রকাশিত ওই রাজাকারের তালিকায় গেজেটেড এক মুক্তিযোদ্ধার নাম পাওয়া গেছে।
ওই মুক্তিযোদ্ধার নাম অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী। যার ক্রমিক নম্বর ১১২, পৃষ্ঠা নম্বর ৪১১৩। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পেয়ে থাকেন।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার মেয়ে ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী।
এ ঘটনাকে নিজের ‘রাজনীতির খেসারত’ আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশালের সদস্য সচিব ডা. মনীষা।
তিনি লেখেন, ‘মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ কাজ করার পুরস্কার পেলাম আজ। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগকে। সদ্য প্রকাশিত রাজাকারদের গেজেটে আমার বাবা এবং ঠাকুমার নাম প্রকাশিত হয়েছে।’
‘আমার বাবা এড. তপন কুমার চক্রবর্তী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা, ক্রমিক নং ১১২ পৃষ্ঠা ৪১১৩। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও পেয়ে থাকেন। আজ রাজাকারের তালিকায় তিনি ৬৩ নাম্বার রাজাকার!’
ডা. মনীষা বলেন, ‘আমার ঠাকুরদা এড সুধির কুমার চক্রবর্ত্তীকে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তিনিও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত। তার সহধর্মিণী আমার ঠাকুমা উষা রানী চক্রবর্ত্তীকে রাজাকারের তালিকায় ৪৫ নাম্বারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
তার দেওয়া স্টাটাসটি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, ৩ ঘন্টার ব্যবধানে লাইক পড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজারের উপর, কমেন্ট হয় সাড়ে পাঁচশ আর শেয়ার হয় দেড় হাজারের মতো।
