সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রাম’র ৮ম দিনে বাঙালী চেতনাবোধে পেশাজীবীদের যাত্রা শীর্ষক সমাবেশ পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এ.কিউ.এম সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার বিকেল ৫টায় জিমনেশিয়ামস্থ অমর একুশে বইমেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত উক্ত পেশাজীবী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল খান। প্রধান আলোচক ছিলেন সাউদান বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উপ-উপাচার্য ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাহিম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা গবেষক আবু সাঈদ সর্দার।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী এড. মিলি চৌধুরী।
২য় পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত শিল্পী অনামিকা তালুকদার, কোহেলী মজুমদার, লুপর্ণা মুৎসুদ্দী, সোনিয়া হায়দার, অনুপম দেবনাথ পাভেল, প্রিয়া ভৌমিক। নৃত্য পরিচালক স্বপন দাশের পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন ঘুঙুর নৃত্যকলা একাডেমির শিল্পীবৃন্দ।
সভায় প্রধান অতিথি বলেন মানুষ ভিত্তি হচ্ছে তার শেকর। আর শেকড়ের সমস্যা হলে তার অস্তিতের সংকট হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের মাধ্যমে সেদিন সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্নে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। আর সব পেশার মানুষ অনুভব করেছিলেন স্বাধীনতার জন্য। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেছিলেন আমাদের যা কিছু আছে তা দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু সেদিন বাঙালীর সবার হৃদয়ের কথা নিজের মনে ধারণ করে ১৮ মিনিট বক্তব্যের মাধ্যমে ৭ কোটি বাঙালিকে এক করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কখন কিভাবে কোন কাজটির মাধ্যমে এদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হবে এবং তা তিনি তার হৃদয়ে সর্বোচ্চভাবে ধারণ করে বাঙালিকে ঐক্যের কাতারে নিয়ে এসেছিলেন।
নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের ভাষায় তলাবিহীন জুড়ি থেকে কীভাবে হঠাৎ লাভ দিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে দৌড়াচ্ছে তা অনেক দেশের জন্য শিক্ষনীয়।
তিনি বলেন আমাদের ৯০% দরকার হৃদয়ভিত্তি দিয়ে দেশপ্রেমের শিক্ষানিয়ে কাজ করে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চেতনা এখনো চলমান। এ আদর্শের বহমান ধারা চলতে থাকবে। আত্মপরিচয়, আত্মস্বীকৃতি এবং আত্মসম্মানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বির্নিমাণে আমাদেরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে।
বাংলাদেশকে নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় পেশাজীবীদের জাড়ার চৈতন্য অব্যাহত আছে। পেশাজীবীদের সংকট সমাধানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একমাত্র মুক্তির পথ। যে পথে আলো ছড়িয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
প্রধান আলোচক বলেন পেশাজীবীরা বাংলাদেশ বির্নিমানে প্রধানতম সহায়ক। তিনি মাননীয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকাও জরুরী বলে মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের সকল রকম গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে পেশাজীবীরা অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। এদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় পেশাজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে সুদৃঢ় অবস্থান রেখেছিল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন বলেন হাইব্রিড নয় ত্যাগী ও আদর্শিক রাজনৈতিকদের নেতৃত্বের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বির্নিমাণে কাজ করে যেতে হবে। তিনি ত্যাগী পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মূল্যায়ন জরুরী বলে মনে করেন।
সভার সভাপতি বলেন ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা যে বাংলাদেশ পেয়েছি তা সকল পেশাজীবীদের অবদানের ফসল। এদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করেছিলেন তৎকালীন মেডিকেল কলেজের ছাত্র। ভাষা আন্দোলনে প্রায় ৬৯জন চিকিৎসক শহীদ হয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রামের পেশাজীবীরা নিরলস ভূমিকা রেখেগেছেন। আই ইউ বির তৎকালীন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন।
তিনি বলেন মানুষের কল্যাণে বিশেষ করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কল্যাণে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের যাবতীয় মেগা প্রকল্পের সুফল যেন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ ভোগ করতে পারে সেদিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি রেলওয়ে হাসপাতালকে বেসরকারী পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ হাসপাতালে রুপান্তর না করে সরকারী পরিচালনায়ও ব্যবস্থাপনায় জনমানুষের জন্য সরকারী বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল করার আহ্বান জানান।
আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা মঞ্চে লেখক সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশের বরেণ্য লেখক ও বুদ্ধিজীবী হাসনাত আব্দুল হাই, ড. জাফর ইকবাল, আনিসুল হকসহ আরো অনেকে। আজকের অনুষ্ঠান সমূহে বই প্রেমি সকলকে উপস্থিত থাকার বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বার্তা প্রেরক
