প্রশিক্ষকের আত্মহত্যার চেষ্টা
পটিয়া পিটিআইতে যৌন হয়রানি,ডিডির নেতৃত্বে তদন্ত দল
সিটি নিউজ,পটিয়া : পটিয়ায় নারী প্রশিক্ষণার্থীদের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে এক প্রশিক্ষকের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় পটিয়ার প্রাথমিক শিক্ষক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) সরেজমিন তদন্তে গেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালক সুলতান মিয়ার নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক রাশেদা বেগম ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম গতকাল রবিবার ঘটনা তদন্তে যান। প্রাথমিকভাবে গতকাল অভিযুক্ত ৪ প্রশিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণের পর প্রশিক্ষণার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুরোধ জানায় তদন্ত দল। পরে পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট এবং প্রশিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে আজ (সোমবার) থেকে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সিদ্ধান্তের কথা জানায় প্রশিক্ষানার্থীরা। আন্দোলনকারী প্রশিক্ষণার্থী সাইদ হোসেন বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠা চার শিক্ষককে প্রত্যাহার করে নেয়ার দাবি মেনে নেওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি।
সোমবার (আজ) থেকে আমরা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেব। এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ সদস্যের অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পটিয়া উপজেলা প্রশাসন। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পিটিআই’র সাধারণ প্রশিক্ষক দেবব্রত বড়ুয়া দেবু প্রশিক্ষণার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখে চট্টগ্রাম নগরের কালামিয়া বাজারের ভাড়া বাসায় গত শনিবার ভোরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এতে তিনি চার প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, ফারুক হোসেন (শারীরিক শিক্ষা), জসিম উদ্দীন (সাধারণ), রবিউল ইসলাম (আইসিটি) এবং সবুজ কান্তি আচার্য্য (চারু ও কারুকলা)। এ ঘটনার পর গত শনিবার সকাল থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে।
