করোনাভাইরাসঃ ভারতীয়দের বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ভারতীয়দের বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (১৫ মার্চ) থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) মিলনায়তনে এক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. মোমেন এ কথা জানান। ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বিস।

করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশিদের সেদেশে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে, বাংলাদেশও এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের যাত্রীদের সেদেশে প্রবেশ বন্ধ করেছে। আমরাও সে অনুযায়ী ভারতের যাত্রীদের প্রবেশ বন্ধ করেছি।

ভারতে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১০ জন। অন্যদিকে বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। এদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়েছেন এবং বাকি দু’জনও ভালো আছেন বলে দাবি আইইডিসিআরের।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপ থেকে বাংলাদেশমুখী ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও তার আগে থেকেই ইতালিসহ করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন অনেক প্রবাসী।

মন্ত্রী বলেন, যেসব দেশে করোনাভাইরাস বেশি আমরা সেসব দেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করেছি। যেন বহিরাগত কেউ এসে ভাইরাস না ছড়ায়। এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে আমাদের জনগণকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। যেসব দেশে করোনাভাইরাস অস্বাভাবিক মাত্রায় ছড়িয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা বন্ধ না হলেও যিনি আসবেন তাকে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের বাঙালি প্রবাসীরা যখন আসেন, তারা এটাতে খুব অসন্তুষ্ট হন। কেউ কেউ আছেন, দেশে এলে নবাবজাদা হয়ে যান। ফাইভ স্টার হোটেল না হলে অপছন্দ করেন।

‘আমাদের তো একটা দৈন্যতা আছে। এটা তো একটা বিশেষ অবস্থা, সেটা তো বুঝতে হবে। আমরা যাদের নিয়ে আসি, তাদের হজক্যাম্পে রাখি। এখন আমরা কয়েকটা হাসপাতাল রেখেছি। আমাদের ভয়, বেশি সংখ্যক আসলে আমরা কীভাবে রাখব? আমাদের ষোল কোটি লোক কয়েকজনের জন্য আক্রান্ত হোক, আমরা এটা চাই না। কারণ আমাদের বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা আছে। সমাজের দুর্বলতা আছে। সেজন্য আমরা ঠিক করেছি যে, ওদেরকে দূরে রাখার জন্য। এ কারণে আমরা জ্বর আসলে বলি, আপনারা বাড়িতে থাকেন ১৪ দিন। বাইরে-টাইরে বেশি যাবেন না।’

প্রবাসীদের বিদেশেই থাকার আহ্বানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর আগে আমরা ভিডিও মারফতে আপিল করেছিলাম যে, আপনারা যে যেখানে আছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে কয়েকদিন থাকেন। অবস্থা ভালো হবে। গরম পড়ছে, ভালো হবে। কিন্তু তারা এটা শোনেননি। সেজন্য আমরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছি।

শনিবার (১৪ মার্চ) ইতালি থেকে আসা প্রবাসীদের আশকোনায় হজক্যাম্পে নেয়ার পর তাদের হট্টগোল প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, গতকাল যারা দেশে এসেছেন, ন্যাচারালি তারা কোয়ারেন্টাইনে যেতে চান না। দেশে আসছেন, সুতরাং সাথে সাথে বাড়িতে যাবেন, এই আগ্রহ থেকে আসছেন। তারপরে আমরা যেখানে রাখব, আগেও রেখেছিলাম ৩১২ জনকে।

তারা এসে সেখানে থাকতে পছন্দ করেননি। বাংলাদেশে ফ্ল্যাট বাথরুম হয়, তারা কমোড বাথরুম ইউজ করেন। সুতরাং তাদের অসুবিধা হয়েছে। আমরা পর্যটন করপোরেশন থেকে খাবার দিয়েছি, তারা মনে করেন, সোনারগাঁও বা ফাইভ স্টার মানের হোটেল থেকে খাবার দেয়া উচিত। আমরা সেটা দিতে পারিনি। সেজন্য তারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন রকম অভিযোগ ছিল। আর তারা মনে করেন এগুলো খুব নোংরা। আমরা পাঁচ ফুট দূরে দূরে বেড রেখেছি, তারা এগুলো পছন্দ করেননি। তারা চাইছিলেন ভালো বেড-টেড।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম, বিস চেয়ারম্যান এম ফজলুল করিম, বিস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী প্রমুখ।

 

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.