আমি কখনো ভাবিনি এভাবে মিডিয়ার সামনে আসতে হবেঃ ভিপি নুরের স্ত্রী
সিটি নিউজ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না এ ধরনের একটি মিথ্যা গুজব মামলায় নুরুকে গ্রেফতার করা হবে। আমি এ ধরনের পরিস্থিতির স্বীকার কখনো হইনি আর কখনো হবো তা কল্পনাও করিনি। আমি কখনো ভাবিনি আমাকে এভাবে মিডিয়ার সামনে আসতে হবে। আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই আর কিছু চাই না।
তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীকে চিনি। দীর্ঘ ৫ বছর আমাদের সংসার। ও কেমন আমি জানি। ও কখনো এ রকম কাজ করেনি।
তিনি আরো বলেন, আমিতো মা, ওকে যখন গ্রেফতার করে নিয়ে আসতে যাবে তখন আমার সন্তান গাড়ির দরজার সামনে গিয়ে বলছে মা বাবা এসেছে।
ভিপি নুরকে গ্রেফতারের পর মধ্যরাতে ঢাকা ডিবি অফিসের সামনে সন্তান কোলে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে এ কথা বলেন নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তার।
পুলিশের পক্ষ থেকে আপনাদের এখনো কোনো কিছু জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না আমাদেরকে এখনো পর্যন্ত কোনো কিছু জানানো হয়নি। ওকে যখন হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয় তখন আমাদেরকে বলেছে ওকে নিউরোসার্জারি তে ভর্তি করা হবে। আমাদেরকে মিথ্যা বলে ওকে পেছনের দরজা দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সামনের দরজা দিয়ে ওকে নিয়ে আসেনি। আমি তখন বুঝতে পারছি ওকে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে বুঝতেও পারিনি ওকে নিয়ে যাচ্ছে।
নুরের স্ত্রী বলেন, ও এমনিতে শারীরিকভাবে অসুস্থ। কয়েকবার ও মাইর খাইছে। ওর বুকের পাজরে সমস্যা আছে। ওর মেরুদণ্ডে দুইটা হাঁটুতে ফ্যাকচার।
এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাবেক ভিপি নুরকে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ একটি মাইক্রোবাসে তুলে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যায়। বেরিয়ে যাওয়ার সময় নুরের সমর্থকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ছেড়ে দেয়া হয়েছে ভিপি নুরকে
রাজধানীর শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে আটকের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর পর নুর ও তার এক সহযোগীকে নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
ভিপি নুরকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নুরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে’।
রাত ১০ টার দিকে নুর ও তার এক সহযোগীকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, নুরসহ দুইজনকে ডিবি সদস্যেরা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। আরেক জনের নামে সোহরাব হোসেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে তাকে আটক করা হয়। ধর্ষণের মামলার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগেও তাকে আটক করা হয়। এরপর তাকে নেয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে। এর কিছুক্ষণ পরই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় ঢাবি ছাত্রীর করা ধর্ষণের মামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে সোমবার বিকেলে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেখানেই পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরো একটি মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি হয়।
