সিডিএ রিং রোডঃ ভূমি অধিগ্রহণ না করেই রাস্তা নির্মাণ করছে
গোলাম শরীফ টিটু, সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত আউটার রিং রোড প্রকল্পের জন্য তিন বছর আগে থেকেই ভূমি অধিগ্রহণ না করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির ওপর রাস্তা নির্মাণের কাজ করছে।
সম্প্রতি সিডিএ চেয়ারম্যান এক সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন সড়কটির ১৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রায় ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারের সড়কটিতে ৫ শতাধিক ভূমির মালিক দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষতিপূরণ চেয়ে সিডিএ কর্তপক্ষের মামলা, হামলা ও ভয়-ভীতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকরা নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটাস্থ নির্মানাধীন রিং রোডে এক মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করেন। প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের লোকজন মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কাইসার, মুহাম্মদ সরওয়ার, মোহাম্মদ আলমগীর, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ মনির প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রকল্পটির শুরু থেকেই ছিল ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত নানা জটিলতা, যা এখনও সমাধান হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অধিগ্রহণ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির ওপর কাজ করার সুযোগ না থাকলেও সিডিএ নিয়ম না মেনে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির ওপর সড়ক নির্মাণ শুরু করে।
আর ভূমি মালিকরা গত তিন বছর ধরে জমির ক্ষতিপূরণ দাবি করে সিডিএ দরজায় ঘুরলেও কোনো জবাব মিলছে না। ফলে ভূমি মালিকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পর্যন্ত স্মারকলিপি দিলেও কাজ হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ অধিগ্রহণ না করে অনেকের জমি দখলে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, রিং রোডে অন্তত ৫০০ পরিবারের জায়গা রয়েছে। এরমধ্যে ১৬ জনকে ক্ষতিপূরণ চেক দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৮৪ পরিবারকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে সিডিএ।
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর তীরে আট দশমিক পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পায়।
