জুবায়ের সিদ্দিকী/ গোলাম শরীফ টিটুঃ আওয়ামী লীগ সরকার টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। তৃতীয় মেয়াদে এসে সরকার নানা সমস্যার সম্পুখীন হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক সরকার যখন সমস্যায় পড়ে তখন সেই রাজনৈতিক সংগঠন সমস্যা সমাধানে কাজ করে এটাই গনতান্ত্রির রীতি ও কৌশল।
একটি রাজনৈতিক সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করার জন্য দলের আদর্শ নির্বাচনী অঙ্গীকার পুরণ হয় ওই রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে। এটাই চলিত রীতি। সরকারে আওয়ামী লীগের ভুমিকা সংকুচিত হচ্ছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ঘটনায় সুস্পষ্ট ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের।
সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ একদিকে যেমন অন্ত:কোন্দলে জড়িয়ে আছে, তেমনিভাবে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের নিরবতায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও করনীয় কি তার কোন দিকনির্দেশনা পাচ্ছে না। তৃণমূলের একটাই ভরসা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
বিভিন্ন কারন অনুসন্ধানে দেখা যায়ঃ ১) দলের হেভিওয়েট নেতাদের উদাসীনতা ২) কমিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা ৩) কমিটিবিহীন অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সহ নানা সমস্যা। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও রাজধানীতে এমপি, মন্ত্রী ও নেতাদের বেফাঁস কথাবার্তাও দলকে তার গতিতে চলতে ব্যাহত করে। সাধারণ মানুষ এসব বেফাঁস কথাকে ভাল চোখে দেখে না।
প্রথমতঃ হেভিওয়েট নেতারা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং দলের সাংগঠনিক তৎপরতার ব্যাপারে প্রায় উদাসীন। কয়েকজন সিনিয়র নেতা ছাড়া অন্যরা নিশ্চুপ। এদের মধ্যে দুইজন করোনায়ও আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নেতারা কি নির্দেশনা পাবেন তার কোন পদক্ষেপ নেই। দলটি এখন শেখ হাসিনা নির্ভর হয়ে পড়েছে। তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ততার মাঝেও দলকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
দ্বিতীয়তঃ সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪০টি জেলা থেকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছিল। সেই কমিটিগুলোতে বিতর্কিতদের নাম ও জেলার সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের পছন্দের নামে ভরপুর এসব এখন যাছাই বাছাই চলছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্থিরতা ও কোন্দল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অস্থিরতা দলের সাংগঠনিক তৎপরতাকে ব্যাহত করছে।
তৃতীয়তঃ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুর্ণাঙ্গ কমিটি নেই দীর্ঘদিন ধরে। কমিটি না থাকার ফলে এই অঙ্গ সংগঠনগুলো ভালভাবে কাজ করতে পারছে না। ছাত্রলীগের কর্মকান্ড এখন অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগ রয়েছে কোনঠাসায়। যুবলীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় কার্যক্রম একরকম স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্নভাবে বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেই বিরোধী দলের মোকাবেলা করার কৌশল চলছে। আওয়ামী লীগের ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেক নেতা মনে করেন, আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও বেশি ক্রিয়াশীল হতে হবে এবং জনগনের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মুল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতাকে দেখছেন সাধারন মানুষ।
