হেফাজতের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে জামাতের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা

0

দিলীপ তালুকদার, সিটি নিউজঃ হেফাজত ইসলামের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে জামাত আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমন অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটির একটি অংশ। এসব অভিযোগ সংবলিত লিফলেটও বিলি করা হয়েছে হেফাজতের দুর্গখ্যাত চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা এলাকায়।

হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির আহমদ শফীর অনুসারীদের হটিয়ে সংগঠনকে জামায়াত-শিবিরের ‘বি’ টিম বানানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাটহাজারী মাদ্রাসা গেটে বিলি করা হয় এসব লিফলেট। লিফলেটের একটিতে দেখা যায়, হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র শামীম-বিন সাঈদীর একটি ছবি দিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘হাটহাজারী মাদ্রাসায় মানবতাবিরোধী সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাঈদী পুত্র শামীম সাঈদীর আনাগোনা- এ কীসের ইঙ্গিত।’

এছাড়া হেফাজতে ইসলামকে প্রয়াত আমির আহমেদ শফীর ঘনিষ্ঠদের বাদ দিয়ে হেফাজতের কমিটি করতে জামায়াত-শিবির ষড়যন্ত্র করছে বলেও এসব লিফলেটে অভিযোগ করা হয়। অন্য একটি লিফলেটে লেখা হয়েছে, ‘ধর্মপ্রাণ ও অরাজনৈতিক হেফাজতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহাতের ষড়যন্ত্রে মরিয়া জামায়াত-বিএনপি।’তবে এসব লিফলেট কে বা কারা বিলি করেছে সেবিষয়ে কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান, জুমার নামাজের পরপরই এসব লিফলেট মুসল্লিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কারা বিলি করেছে তা বলতে পারছেন না তারা।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনেই সংগঠনের আমির নির্বাচন করা হবে। এই কাউন্সিলের ডাক দিয়েছেন হেফাজত থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা নায়েবে আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। হেফাজতে ইসলামের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের এই কাউন্সিলে প্রয়াত আমির আহমদ শফীর অনুসারীদের দাওয়াত দেয়া হয়নি। এমনকি শফীপুত্র হেফাজতের নেতা ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক সহকারী পরিচালক আনাস মাদানীসহ তার অনুসারীরা দাওয়াত পাননি। একটা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এবং পকেট কমিটির গঠনের জন্য এই কাউন্সিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে জামায়াতি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কার্যনির্বাহী কমিটিকে পাশ কাটিয়ে হেফাজতের গুটিকয়েক নেতা এই সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি জামায়াত ইসলামের শীর্ষ নেতাদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে জামায়াত নেতাদের ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে।

এটিকে অবৈধ কাউন্সিল হিসেবে আখ্যায়িত করে শফীর অনুসারীরা বলছেন, হেফাজতের পরীক্ষিত প্রকৃত নেতাদের বাদ দিয়ে এই কাউন্সিল ডাকা হয়েছে। যারা কাউন্সিল আহ্বান করেছেন, তাদের তা করার কোনো বৈধতা নেই।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.