বধ্যভুমিতে প্রতীকী জীবন্ত ভাস্কর্য় প্রদর্শনে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড

0

সিটি নিউজঃ প্রতীকী বঙ্গবন্ধুর পাশে প্রতীকী রাইফেল হাতে পাহারা দিচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বুকে ও পিঠে মৌলবাদ বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান লিখে এবারের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আরও একবার জাতিকে পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত করার এবং যেকোনো মূল্যে দেশ থেকে স্বাধীনতা বিরোধী ও উগ্র মৌলবাদীদের পুরোপুরি প্রতিহত করার শপথ নেয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের তাদের সন্তানরা।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক বধ্যভূমিতে ব্যতিক্রম কর্মসূচি আয়োজন করে।

আজ  সোমবার(১৪ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটায় সমাবেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক শাহেদ মুরাদ সাকুর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ডেপুটি কমান্ডার মো শহীদুল হক চৌধুরী ছৈয়দ, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড.বেনু কুমার দে, পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী, কম্পিউটার সায়ন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড.খায়রুল ইসলাম।

প্রধান বক্তা ছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব ফরিদ মাহমুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমান্ডার মোজাফফর আহমদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে অর্জিত বাংলা কারো দানে পাওয়া নয়।লক্ষ কোটি প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি এ দেশ। দেশটি ছোট্ট হলেও প্রতি বর্গকিলোমিটার অর্জিত হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে। পাকিস্তানি হানাদাররা ১৯৭১ সালে চালিয়েছিল নারকীয় ও শতাব্দীর ঘৃণ্যতম হত্যাযজ্ঞ। বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সদস্যরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিধনে মাঠে নামে। তারা বেছে বেছে অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে।

তিনি যুদ্ধাপরাধী জামায়াত ও মৌলবাদীচক্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন যুদ্ধাপরাধী জামায়াতচক্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, এটাই হোক ২০২০ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।

প্রধান বক্তা আলহাজ্ব ফরিদ মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বুঝতে পেরেছিল, তাদের পরাজয় অনিবার্য। তাই জাতিকে মেধাহীন করতে বরেণ্য ব্যক্তিদের বাসা এবং কর্মস্থল থেকে রাতের অন্ধকারে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে হত্যা করে। তারা দেশের নানা জায়গায় হত্যাযজ্ঞ চালালেও মূল হত্যাকাণ্ড ঘটায় রাজধানীর রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে।

তিনি আরো বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সমাজ গড়তে পারলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি স্মরণ করে ফয়েজ লেক বধ্যভূমিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম উল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুবউদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা আক্তার বাঁধন, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম ইসলাম লিজা, মহানগর যুবলীগের সদস্য শেখ নাছির আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন দেলু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য মনোয়ার জাহান মনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কাজী মুহাম্মাদ রাজিশ ইমরান, কামরুল হুদা পাভেল, রিপন চৌধুরী, সৈয়দ মইনুল আলম সৌরভ, কামাল হোসেন টিটু, মাসুদ করিম, নাসির খান,কৃষ্ণ চৌধুরী, বিবি হাসনাত প্রমুখ।

বুকে প্রতিবাদী শ্লোগান লিখে সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জয়নুদ্দিন জয়, আসাদুজ্জামান জিসান, মনি আহমেদ বিজয়, কাওসার চৌধুরী, জুনায়েন আহমেদ, মাসুম করিম, রাব্বি হোসেন জিসান, মো হৃদয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.