বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিতঃ তথ্যমন্ত্রী

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সম্পত্তি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আজকে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আজকে পদ্মার দুই কূল-দুই পাড় সংযুক্ত হয়েছে। পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকায় বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত।

আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ মারিন শুহ’র সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব খাজা মিয়া, ফরাসি দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সিলর পিয়েরে-হেনরি লেফোঁ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য ‘মনে হয় পদ্মা সেতু তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি’ এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পদ্মা সেতু অবশ্যই একটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সম্পত্তি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আজকে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আজকে পদ্মার দুই কূল-দুই পাড় সংযুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই পদ্মা সেতু যাতে না হয়, সেজন্য বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিএনপিও যুক্ত ছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু করতে পারবে না, পারবে না, পারবে না।’ অর্থাৎ খুব জোর দিয়ে বলেছিলেন। এবং এটাও বলেছিলেন যে, ‘আওয়ামী লীগ যদি জোড়াতালি দিয়ে কোনও সেতু বানায়ও সেটার ওপর দিয়ে কেউ যাবে না।’ সেজন্যই প্রশ্ন রেখেছিলাম যে, বিএনপি কি সেতুর ওপর দিয়ে যাবে না নিচে দিয়ে যাবে। ’’

বিএনপি নেতাদের,‘জিয়ার আমল থেকেই পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু হয়েছে’ মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘মোগল আমল-সুলতানি আমল থেকেই দেশে সেতু নির্মাণ শুরু হয়েছে। আর জিয়াউর রহমানের আমলে কিছু রাজনৈতিক নেতা কেনাবেচা হয়েছে। সেই সময় একটি ধনী শ্রেণি ও ব্যাংক লুটেরা তৈরি করে বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ী-বিএনপি নেতাদেরকে ব্যাংক থেকে লোন দেওয়া শুরু হয়, যে লোন শোধ করা হয় নাই। অর্থাৎ লুটপাটটা শুরু হয়েছিল জিয়ার আমলে, আর তার ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে খালেদা জিয়ার আমলে।’

এসময় ভাস্কর্য নিয়ে আলেমদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় বসার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে কারও সঙ্গেই বসতে পারেন। যারা নিজের জন্মের তারিখ বদলে দিয়ে ১৫ আগস্টে কেক কাটে, তাদের সঙ্গেও সরকার বসেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বসেছেন। যারা সরকারকে প্রতিদিন টেনে নামিয়ে ফেলার হুমকি দেয়, তাদের সঙ্গেও আমরা বসেছি।’

এখানে বিভ্রান্তির কোনও সুযোগ নেই উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন মতের মানুষের সঙ্গে বসতেই পারে। এটি গণতান্ত্রিক দেশ। সুতরাং, যারা ভাস্কর্য ইস্যুতে বিরূপ মন্তব্য করছেন, তাদের সঙ্গে সরকার বসতেই পারে। কিন্তু বিভিন্ন মতের সঙ্গে বসা মানে এই নয় যে, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছি। আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত এবং সব মৌলবাদী অপশক্তি, যারা এই দেশটাকে পিছিয়ে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি-ঐক্য-সংহতি নিয়ে দেশ এগিয়ে যাবে। সব ইসলামি দেশসহ সারাবিশ্বের মতো এখানে এই দেশে শত শত বছর ধরে ভাস্কর্য ছিল, আছে এবং থাকবে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যও নির্মিত হবে।’

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দু’দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে এবং বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছি।’

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আইপিটিভিসহ নানা ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচার মাধ্যমের কারণে ইউরোপেও যে নানাভাবে অনেক সময় গুজব, বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়, যেগুলো আমাদের দেশেও ঘটে, তার প্রতিকারে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কি ধরনের আইন-নীতিমালা আছে বা প্রণয়ন চলছে, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.