চন্ডীপাঠে দেবীদূর্গার আহ্বান মেধস মুনি আশ্রমে

0

সিটিনিউজবিডি : চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা পাহাড়ে মেধস আশ্রমে শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে মর্ত্যধামে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাস্য দেবী মা দুর্গাকে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যধামে আবাহন করা হয়েছে।

হিন্দু পুরাণ মতে বোয়ালখালীর মেধস মুনির আশ্রমেই দুর্গাপূজার উৎপত্তি। এ আশ্রমেই প্রথম দেবী ভগবতীর আর্বিভাব হয়েছিল বলে জনশ্রুতি আছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টায় মেধস মুনির আশ্রমে চন্ডীপাঠ অনুষ্ঠিত হয়। মহালয়া উপলক্ষে এ তীর্থধামে সমবেত হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার পূণ্যার্থী। দিনভর চন্ডীপাঠ, পূজা অর্চনাসহ নানা আয়োজনে মুখরিত হয়ে উঠেছে এই চন্ডীতীর্থ।

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মতে, সত্য যুগে করলডেঙ্গা পাহাড়ে তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে উঠেছিল মেধস মুনির আশ্রম। কালের বিবর্তনে মেধস মুনি, সুরথ রাজা আর সমাধি বৈশ্যের অবর্তমানে সেটি অবলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে স্বামী বেদানন্দ নামে এক সাধক দৈববলে আদেশ পান কড়লডেঙ্গার বেতসা নদীর তীরে যাওয়ার জন্য। সেই আদেশ পেয়ে সেখানে এসে বাসন্তী পূজার উৎপত্তিস্থলকে অবলুপ্তির হাত থেকে বাঁচান স্বামী বেদানন্দ।

সত্য যুগের কথা। আমত্যবর্গের (মন্ত্রীপরিষদ) বিদ্রোহের মুখে পড়ে কোলা রাজ্য হারান রাজা সুরথ। আত্মরক্ষার্থে ঢুকে পড়েন বনে। ঘুরতে ঘুরতে এসে পড়েন বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে, দেখতে পান বনের মাঝখান থেকে ধোঁয়া উড়ছে। কাছে গিয়ে দেখেন ঋষি-মুনিরা ধ্যানে মগ্ন। একই সময়ে গৃহহারা হয়ে সেখানে আসেন অবস্থাপন্ন গৃহস্থ সমাধি বৈশ্য। দু’জনই কাতর হয়ে মেধস মুনির শরণাপন্ন হন।

মুনি বললেন, ‘বিচলিত হয়োনা, সব শক্তিমান মহামায়ার খেলা। মা সন্তুষ্ট হলে আবার রাজ্য ও পরিবার ফিরে পাবে।’ তখন ছিল চৈত্র মাস, বসন্ত কাল। রাজা সুরত আর সমাধি বৈশ্য শুরু করেন মহামায়ার আরাধনা। বসন্ত কালে সুরথ রাজা আর সমাধি বৈশ্যের সেই পূজার মধ্য দিয়েই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাসন্তী পূজার উৎপত্তি। বাসন্তী মানে দেবী দূর্গা। সেই হিসেবে কড়লডেঙ্গা পাহাড়েই শুরু দূর্গা পূজা।

সচ্চিদানন্দের মতে, শুধুমাত্র বাসন্তী পূজার উৎপত্তির জন্যই এর খ্যাতি আছে এমন নয়। রামায়ণে বর্ণিত মতে, সত্য যুগ পার হওয়ার পর ত্রেতা যুগে অযোধ্যার রাজা দশরথের আদেশে রাম ও সীতা বনবাসী হয়ে ঘুরছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে তারাও এসে পড়েন এই কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে। এখানে বেশ কিছুদিন বসতি স্থাপন করে রাম-সীতা বসবাস করেন।

বনবাসী থাকার সময় রাক্ষসরাজ রাবণ সীতাকে হরণ করেন। রাবণকে বধ করার জন্য রাম আশ্বিন মাসে দেবী দুর্গার পূজা করেন যা অকাল বোধন নামে পরিচিত। পরবর্তীতে কড়লডেঙ্গা পাহাড়ের বাসন্তী পূজার চেয়েও দুর্গা পূজার প্রচলন বেশি হয়ে যায়।

কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে সুরথ রাজা আর সমাধি বৈশ্যের দুর্গা পূজার স্থানটিতে এখনও আছে দশভূজা (মহামায়া) মন্দির। আছে মেধস মুনির আশ্রম। কামাখ্যা, শিব, তারা, সীতা, দক্ষিণেশ্বরী মন্দির এবং বেদানন্দ মহাপ্রভুর সমাধিও আছে।

এদিকে মহালয়া উপলক্ষে নগরীর জেএম সেন হল, হাজারি লেইন, বোয়ালখালীর ভবানীভবন মাতৃমন্দিরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান চলছে।

সূত্র: বাংলানিউজ

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.