বিশ্বে প্রতি তিন নারীর একজন নির্যাতনের শিকার

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সারা বিশ্বে প্রতি তিন নারীর একজন জীবনে কখনও না কখনও শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। করোনার মধ্যে এ নৃশংসতা আরও বেড়েছে। কারণ লকডাউনে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে তাদের নির্যাতনকারী পুরুষের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বেশি সহিংসতার শিকার দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের সরকারকে ভুক্তভোগীদের জন্য সেবার মান আরও বাড়াতে এবং নারী-পুরুষের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।

শুধু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ায় অনেক নারী ও মেয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে নিপীড়নের শিকার হলেও ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধে মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য ছেলেদের স্কুলেই সমঝোতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং পরস্পরের সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক গড়ার বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গ্যাব্রিয়াসুস বলেন, বিশ্বের সব দেশে এবং সব সংস্কৃতিতে নারীদের ওপর নৃশংসতা খুবই নিয়মিত চিত্র। এ কারণে নারী এবং পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করোনার সঙ্গে নারী নিপীড়ন আরও বেড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫-৪৯ বছর বয়সের ৩১ শতাংশ নারী শারীরিক বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ২০০০-২০১৮ সালের মধ্যে জরিপ করে পাওয়া যায় এ তথ্য। সংস্থাটি জানায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বামী বা সঙ্গীর হাতেই নারীরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হন।

প্রতি চারজনে একজন নারী ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমেই সহিংসতার শিকার হন। অনেক সময় ১৫ বছর বয়স থেকে যৌন হয়রানির ঘটনা শুরু হয়। গরিব দেশগুলোতে এই নির্যাতনের চিত্র রীতিমতো হতাশাজনক। তবে নিপীড়িত নারীর প্রকৃত সংখ্যা জরিপে উঠে আসা সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি বলে মনে করে সংস্থাটি। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, যৌন নিপীড়নের অনেক ঘটনাই অজানা থেকে যায়।

সিটি নিউজ/ডিটি

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.