-- খন্দকার এম এ হেলাল সিআইপি, চট্টগ্রাম।
প্রবাসীরা রেমিটেন্স যোদ্ধার স্বীকৃতি ও সম্মান চায়
জুবায়ের সিদ্দিকীঃ প্রবাসীদের কল্যানে কাজ করছেন চট্টগ্রামে প্রবাসী ক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রবাসী সমাজকল্যান সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান খন্দকার এম এ হেলাল সিআইপি। প্রবাসী টিভিসহ একাধিক জনকল্যানমূলক পদক্ষেপ নিয়ে প্রবাসীদের সংঘবদ্ধ করে তাদের সুখ দূঃখের অংশীদার হচ্ছেন।
আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করে প্রবাসীদের মধ্যে যারা নির্যাতিত, রোগে জর্জরিত, মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন তাদেরকে আইনগত সহায়তা প্রদানসহ সমাজের অবহেলিত মানুষের সাহায্যে প্রাণবন্তভাবে আসা এই উদ্যেমী, উদ্যোগী, নিঃস্বার্থ সমাজসেবক এম এ হেলাল দেশে প্রবাসীদের মাথা গোজার ঠাঁই হিসেবে ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজও শুরু করেছেন। অসহায় প্রবাসীদের চিকিৎসার অর্থ জোগানসহ প্রবাসীদের সাহায্যে অবদান রেখে চলেছেন খোন্দকার এম এ হেলাল। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চট্টগ্রাম প্রবাসী সমাজকল্যাণ সমিতি প্রবাসীদের আরো ব্যাপকভাবে সহায়তা প্রদানে সক্ষম হবেন বলে অবিজ্ঞমহলের অভিমত।
সিটি নিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে খন্দকার এম এ হেলাল সিআইপি বলেন, প্রবাসী ক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রবাসী সমাজকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে জীবনযপন করেছি। প্রবাসীদের কষ্ট আমাকে সব সময় ব্যতীত করে। আমার বিবেক নাড়া দেয়। প্রবাসীরা কোথায় কোথায় হয়রানী ও হেনস্তা হন তা যেমন সবাই জানেন আমিও অবগত। এ জন্য আমি ভাবলাম, প্রবাসীদের জন্য কিছু করব। চেষ্টা করবো প্রবাসীদের জন্য কিচু করার। চট্টগ্রামে দেখলাম, অনেক পরিবার আছে, তাদের অভিভাবক বিদেশ থাকেন। অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তিসহ চিকিৎসা করতে তারা ব্যর্থ হন। সেক্ষেত্রে আমরা প্রবাসী ক্লাব তাদের পাশে দাঁড়ানো ও সাহায্যের হাত প্রসারিত করছি। বিশেষ করে জায়গা জমি নিয়ে ঝামেলা হয় এবং তাদের কষ্ট ও হয়রানীর শিকার হতে হয়। একজনের প্রতিবাদ হয়তো জোড়ালো হয়না। কিন্তু সম্মিলিতভাবে আমরা প্রতিবাদের আওয়াজ তুললে সেটা সমাধান হয়। প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল করছে দেশের। প্রবাসীদের রেমিটেন্স যোদ্ধা বলা হলেও প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়ে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রবাসীরা লালন করেন দেশ ও জাতির উন্নতি। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে দেশবাসীর পাশাপাশি প্রবাসীরাও আনন্দিত। বিমানবন্দরে নেমে যখন একজন প্রবাসী দেখেন লাগেজ নিয়ে টানাটানি ও হয়রানী তখন আমাদের প্রবাসীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির শিকার হচ্ছে অহরহ প্রবাসী। প্রবাসীরা রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে তাদের প্রাপ্য সম্মান চায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতি ও সরকার যথেষ্ট সম্মান দিয়েছেন। এ জন্য সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনার কাছে আমার আবেদন রেমিটেন্স যোদ্ধাদের জন্য অর্থ বা সম্পদ নয়, তাদের যথাযথ মর্যাদা-সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করা হোক বিমানবন্দর থকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে।
সিআইপি হেলাল বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ৫টি পরিবারকে বিধবা ভাতা প্রদান করেছি। এরা আমাদের সদস্য হওয়ার পর মারা গেছেন। প্রতিমাসে আমরা একটা অনুদান দিচ্ছি। প্রায় ২০ জনকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের এক সদস্য তার মেয়েকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে আছেন মেয়ের হার্টে ছিদ্র হয়েছে। তার চিকিৎসার খরচের একটি অংশ আমরা দিয়েছি। প্রবাসীদের লাশ বিদেশ থেকে আনার ব্যবস্থাও করেছি। শীতে কম্বল বিতরণ, এতিমখানায়, মাদ্রাসায় অনুদান দিয়েছি। প্রায় ৫ হাজার সদস্য নিয়ে চট্টগ্রাম প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সমিতি ও প্রবাসী ক্লাব মানবতার পথে চলছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করলে আমরা আরো অধিক সংখ্যক প্রবাসীদের সেবা দিতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস। আল্লাহ্ সুরা বাকারার ২৭৪ নং আয়াতে বলেছেন, “যারা তাদের ধন-সম্পদকে দিবারাত্র, গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করে থাকে। তাদের জন্য তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে পুরস্কার। তাদের জন্য নেই কোন ভয় এবং কোন প্রকার দুঃচিন্তা ও হতাশা। “ইনশল্লাহ্ দেশবাসী ও প্রবাসীদের দোয়ায় এই সংগঠনগুলো প্রবাসীদের সেবায় অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
সিটি নিউজ/জস
