আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনার ডেলটা ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের নানা প্রান্তের বাসিন্দাদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় জারি করা হচ্ছে বিধিনিষেধ। এমন পরিস্থিতিতে গত ছয় মাসের মধ্যে স্থানীয়ভাবে করোনার সর্বোচ্চ শনাক্ত দেখল দেশটি।
বুধবার চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় স্থানীয়ভাবে ৭১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির পর থেকে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এদিকে থাইল্যান্ডে মঙ্গলবার এ রোগে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। অন্যদিকে ভারতে ফের আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্সে চতুর্থ ঢেউ আঘাত হেনেছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও হিন্দুস্তান টাইমসের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তা বিশ্বের সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। এখনও অনেক দেশ এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আনতে না পারলেও চীন তা নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। যদিও সম্প্রতি আবারও সেখানে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। চীনে নতুনভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে কমপক্ষে ৫০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে এক বছরের বেশি সময় পর উহানেও চলতি সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ নতুন করে ধরা পড়ে। এর জের ধরে শহরটির এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার সবাইকে করোনার নিউক্লিক অ্যাসিড পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
থাইল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ২০০ জন এবং মারা গেছেন ১৮৮ জন। ২০২০ সালে মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত থাইল্যান্ডে এটি এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। অন্যদিকে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে ফের বেড়েছে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ৬২৫ জন। একই সময় মারা গেছেন ৫৬২ জন। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস গতকাল বুধবার এ তথ্য জানায়।
এ ছাড়া করোনার চতুর্থ ঢেউ আছড়ে পড়েছে ফ্রান্সে। গত জুলাইতে ফ্রান্সে করোনার দৈনিক সংক্রমণ সর্বোচ্চ তিন হাজারে পৌঁছেছিল। আগস্টের গোড়ায় তা ২০ হাজারে পৌঁছে গেছে। প্রতিদিনই সংক্রমণের হার লাফিয়ে বাড়ছে। চিন্তা বাড়িয়েছে ডেলটা সংস্করণ।
সিটি নিউজ/এসআরএস
