গোলাম সরওয়ার, চট্রগ্রাম :: শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ৭৩ তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স ও ৪৪ তম স্বল্পমেয়াদি কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নতুন ক্যাডেটদের উদ্দেশে এ আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপসহীন ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্মলাভ করেছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী । মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবীত এই বাহিনী আমাদের গর্ব ও অহংকারের প্রতিষ্ঠান। জাতির পিতা সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক ও সময়োপযোগি করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে।’
নতুন ক্যাডেটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি আপনাদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা আজ সেনাবাহিনীর বৃহৎ কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। আপনাদের উপর ন্যস্ত হতে যাচ্ছে দেশ মাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদের সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকতে হবে। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে আপনাদের জীবনের একমাত্র ব্রত।
‘নি:স্বার্থভাবে দেশ ও জনগনের সেবা করবেন। আপনাদের জন্য আমার দোয়া ও শুভকামনা সর্বদা অব্যাহত থাকবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও মার্চ পাস্টের অভিবাদন গ্রহন করেন। পরে তিনি পুরষ্কার বিতরন করেন।
একজন শ্রীলঙ্কান ও একজন নেপালিসহ মোট ১৯৪ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্তদের মধ্যে ৭৩ তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ১৭৯ জন পুরুষ, আটজন মহিলা এবং ৪৪ তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সে পাঁচজন পুরুষ ক্যাডেট রয়েছেন । এ অনুষ্ঠানে ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহন করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাডেটদের পিতা মাতা ও অভিভাবকগণ নবীন অফিসারদের র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
এরআগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বিএমএ কমান্ড্যাট মেজর জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ সফিকুর রহমান তাকে অভ্যার্থনা জানান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, বিদেশী মিশনের কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মাতা-পিতা ও অভিভাবকগণ এ বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।
