চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও অরবিসের সহায়তায় চিকিৎসা পেল ৩ লক্ষধিক রোগী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :: শিশুদের চক্ষু চিকিৎসা সেবা বাড়ানোসহ গ্রামের মানুষের কাছে বহুমূখী চিকিৎসা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ‘ভিশন সেন্টার’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল। শুধু তাই নয় অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় ইতি মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন এই হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন।

বৃহস্পতিবার চক্ষু হাসপাতালের সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। দেশ বিদেশের উন্নত চক্ষু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও নানাবিধ সেবার আশ্রয়স্থল এই হাসপাতাল ও অরবিস ইন্টারন্যাশলের বিগত ১৫ বছরের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম জনগনের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল এই পর্যন্ত প্রায় তিন লক্ষ ৭১ হাজার রোগীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।এই হাসপাতাল থেকে দেশের বিদেশের প্রশিক্ষিত চিকিৎসকরা মিডলেভেল ওয়ারকার প্রশিক্ষণ গস্খহণ শেষে বেরিয়েছে। তারা এখন স্ব-স্ব দেশে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি বলেন, গরীব রোগীদের চক্ষু চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের অন্ধত্ব নিবারণ করা ও তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৩ সালে অতি ক্ষুদ্র পরিসরে গ্রামমুখী চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। যদিও এটি চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হয়েছিল ধীরে ধীরে এটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়ে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর পেছনে এই দেশের জনগণ, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশী-বিদেশী কিছু দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তা এটিকে স¤প্রসারিত করতে সাহায্য করে। প্রথমে ছানি রোগীর মধ্যে এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। ধাপে ধাপে অনুধাবন হয় যে দক্ষ চিকিৎসক, জনবল ও কারিগরি দক্ষতা ছাড়া উন্নত চিকিৎসা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আর এই উপলব্ধি ও চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল। আজ এটি চক্ষু রোগের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সমান দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। দেশ বিদেশের উন্নত চক্ষু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও নানাবিধ সেবার আশ্রয়স্থল এই হাসপাতাল। সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অরবিস ইন্টারন্যাশনালের ডা. মুনীর আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডা. মনিরুজ্জমান ওসমানী, ডা. রাজীব হোসেন, শহীদ ফারুকী, আয়েশা আক্তার । অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আরো বলেন, ওই সময়ে মাত্র ৪০টি শয্যা নিয়ে এই হাসপাতালের যাত্রা শুরু। হলেও ১৯৭৯ সালে হাসপাতালের এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়।

১৯৮৩ সালে এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।বিগত ৪২ বৎসর ধরে নগর থেকে গ্রামাঞ্চলে মানসম্মত উন্নত চিকিৎসা, সেবার পরিধি বৃদ্ধি, চক্ষু চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত মানব সম্পদ উন্নয়ন ও একটি উৎকৃষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি চক্ষু রোগ নির্মূল, চোখের যতœ নেয়ার জন্য গণ সচেতনতা তৈরী ও নানাবিধ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এই প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সম্মেলনে বলা হয়, আমাদের দেশে মোট জনসংখ্যার ৩৫-৪০% হল শিশু। তবে অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও চোখের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য আলাদা সু-ব্যবস্থা বাংলাদেশের কোথাও ছিল না। একজন বয়ষ্ক রোগীর মত দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা একজন শিশুর পক্ষে কষ্টকর।

এই সত্যকে অনুধাবন করে আমি ব্যক্তিগতভাবে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম শিশুদের জন্য আলাদা একটি চিকিৎসা প্রকল্প গ্রহণ করি। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রয়োজন হল প্রশিক্ষিত পেডিয়েট্রিক- চিকিৎসক, প্যারামেডিক, এ্যানেসথেশিয়লজিষ্ট, টেকনিশিয়ান, কাউন্সিলর এবং আলাদা অপারেশন থিয়েটারের। এরই মধ্যে ২০০১ সালে অত্র হাসপাতালের এই নতুন প্রচেষ্টার সাথে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল সম্পৃক্ত হল। তারা চক্ষু রোগের বিভিন্ন বিভাগে আমাদের সহায়তা করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করল। চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও অরবিস এর যৌথ প্রচেষ্টায় শিশুদের জন্য সর্বপ্রথম চালু হল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্ষু চিকিৎসা ইউনিট। বিশেষ করে লোকবল প্রশিক্ষিত করা, অবকাঠামোগত সুবিধাসমূহ তদারকি করা, যন্ত্রপাতিতে সহায়তা, বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে প্রশিক্ষিত করা, এমনকি গরীব শিশুদের বিনামূল্যে অপারেশন এর ব্যবস্থা করল অরবিস ইন্টারন্যাশনাল। পেডিয়েট্রিক লোভিশন ও কাউন্সিলিং প্রশিক্ষণ প্রদান ছাড়াও তাদের সহায়তায় এই পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ৯ শত ৮১ জন। এছাড়া অপারেশন হয়েছে ১২ হাজার ১ শত ৯৬ জন। প্রশিক্ষিত ডাক্তার বেরিয়েছে ১৬ জন এবং মিডলেভেল ওয়ারকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে প্রায় ৩১ জন। রিজিওনাল ও আউটসাইড রিজিওনাল দেশগুলোর মধ্যে আছে ভিয়েতনাম, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, আজারবাইজান, ক্যামেরুন, কেনিয়া ইত্যাদি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.