জিল্লুর রহমান, চট্রগ্রাম :: অদক্ষ জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের কারণে চট্রগ্রাম মহানগরীর সাতটি ক্লিনিক ও ডায়াগোনস্টিক সেন্টাকে মোট ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।
নগরীর এই সাতটি ক্লিনিক ও ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে রোববার দিনভর র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে দেখা গেল- বাহ্যিক চাকচিক্যের মধ্য দিয়ে উন্নত সেবা দানের কথা বলে জনসাধারণের সাথে চলছে নিখুঁত প্রতারণা। শুধু নামেই চলছে। বাস্তবে চিকিৎসা সেবা’র নমুনা নেই। চলছে নানা অনিয়ম ও প্রতারণা এসব হাসপাতালে তেমন দক্ষ জনবল নেই, কোথাও ব্যবহৃত হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, কেউ কেউ মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক দিয়ে সারছেন বিভিন্ন পরীক্ষা। মানবিক থেকে পাস করে একজন বনে গেছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান।
এদিন নগরীর জিইসি, গোলপাহাড় প্রবর্তক ও আশপাশের এলাকায় প্যাথলজী মেশিনে সমস্যা, অযোগ্য লোকবল দিয়ে ল্যাব পরিচালনা সহ বিভিন্ন অভিযোগে মেট্রোপলিটন হাসপাতালকে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, সিএসসিআরকে ৪ লাখ টাকা, রয়েল হাসপাতালকে চার লাখ টাকা, মেডিকেল সেন্টারকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ল্যাব এইডকে ২ লাখ টাকা ও মেট্রো ডায়াগোনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা, শেভরণ ডায়াগোনস্টিক সেন্টারকে ১০ লাখ টাকাসহ মোট ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত ।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। সকালে শুরু হয়ে অভিযান শেষ হয় রাত ৯ টায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম বলেন, নগরীর অভিজাত ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্যাথলজি ল্যাবের মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটি, মেয়াদোর্ত্তীণ রাসায়নিক উপাদান দিয়ে বিভিন্ন টেস্ট করা, অদক্ষ লোকবল দিয়ে ল্যাব পরিচালনা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন না নিয়ে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) পরিচালনা এবং হাসপাতালের ফার্মেসিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর মধ্যে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে মানবিক থেকে পাশ করা একজনকে টেকনিশিয়ান হিসেবে ল্যাব পরিচালনা করতে দেখা গেছে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম।
তিনি জানান, শেভরণ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন না নিয়ে প্রবর্তক শাখায় চক্ষু হাসপাতাল চালু করেছে। এছাড়া মানহীন ল্যাব, মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক ব্যবহার ও অননুমোদিত ওষুধ পাওয়া গেছে এই প্রতিষ্ঠানে।
এর আগে, গত ২৮ ডিসেম্বর নগরীর জামালখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে দক্ষ টেকনিসিয়ান না থাকা, মেয়াদোর্ত্তীন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা, বিশেষজ্ঞ নাম ব্যবহার করে রিপোর্ট তৈরি করা ও প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় সেনসিভ, বেল ভিউ, ডায়াসনিক ও ল্যাব এক্সপার্ট ডায়াগনেস্টিক সেন্টারকে মোট সাড়ে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করে র্যাবের একই ভ্রাম্যমান আদালত।
