চট্রগ্রাম অফিস :: বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ একাত্তরে গণহত্যা ও ধর্ষণের দায়ে আলবদর বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রাখার প্রতিবাদে দলটির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারী ) সকাল ৬ টা থেকে জামায়াতের ডাকা হরতাল শুরু হলেও মাঠে দেখা যায়নি দলটির কোন নেতা কর্মীদের। সকাল থেকে নগরী সহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সবকটি পয়েন্টে রয়েছে পুলিশের সতর্ক অবস্থান। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের বাড়তি নজরদারি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাশ ভট্টাচার্য বলেন, নগরীতে জামায়াতের ডাকা হরতালের কোন প্রভাব নেই, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। নগরীর সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভোর থেকেই পুলিশের বাড়তি নজরদারি রয়েছে।
এদিকে জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে দুর পাল্লার গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) কাজী আব্দুল আওয়াল।
তিনি বলেন, ভোর ৫ টা থেকে জেলার সড়ক ও মহাসড়ক বিশেষ করে সীতাকুন্ড, মিরসরাই, বাঁশখালী, পটিয়া, সাতকানিয়া সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে, মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন আন্ত: জেলা রুটে বাস চলাচল করছে।
এছাড়া যেকোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার ব্যবস্থা নিতে প্রত্যেক থানায় অতিরিক্ত পুলিশ প্রস্তুত রাখা রয়েছ।
এদিকে, হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম বন্দরে। পণ্য খালাস এবং ডেলিভারী দুটোই স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের পরিচালক অপারেশন জাফর আলম।
হরতালে স্বাভাবিক আছে বিমান ও রেল চলাচল। চট্রগ্রাম রেলস্টেশন থেকে সবগুলো ট্রেন স্বাভাবিক নিয়মে আসা যাওয়া করেছে।
বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগ মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দন্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেন দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।
