চট্রগ্রাম অফিস :: ময়লা-আবর্জনাযুক্ত খোলা টয়লেট। সেখান থেকে বের হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এই টয়লেট লাগোয়া এক চিলতে জায়গায় বানানো হচ্ছিল ‘সু-স্বাদু ও মুখরোচক’ মিষ্টি । এই চিত্র চট্টগ্রাম নগরীর সিরাজউদদৌলা রোডের দত্ত স্ইুটস নামক মিষ্টি প্রস্তুতকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের।
রবিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
অভিযানে নোংরা ও ময়লা- আর্বজনাময় পরিবেশে মিষ্টি তৈরির দায়ে দত্ত সুইটস-কে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
টয়লেটের সামনে মিষ্টি বানানোই শেষ নয়। এই দোকানে দীর্ঘদিনের পঁচা, বাসী, পাঙ্গাস পড়া ও ইঁদুরে খাওয়া বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিরও সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। এধরনের প্রায় ১৫ মণ মিষ্টি, রসমলাই, রসগোল্লা ও দই জব্দ করে পাশের নালায় ফেলে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন বলেন, ‘দত্ত সুইটসে নোংরা, ময়লা ও আর্বজনার মধ্যেই মিষ্টি তৈরী করা হচ্ছিল। যা দেখলে কেউ আর মিষ্টি খাতে চাইবে না। এছাড়া তাদের তৈরীকৃত অনেক মিষ্টিতে ফাংগাস পড়ে আছে। কিছু মিষ্টি আবার ইঁদুর খেয়ে ফেলেছে।’
তিনি জানান, সংর্কীণ একটি দোতলা বিল্ডিংয়ের নিচতলায় দত্ত সুইটস তাদের মিষ্টি, দই, রসমলাই ও রসগোল্লা তৈরি করে। আর দোতলায় মিষ্টি দোকানের কর্মচারীরা থাকে। এই দোকানের একটি অংশে তারা তাদের তৈরী মিষ্টি বিক্রি করে থাকে ।
‘দত্ত সুইটসে সবচেয়ে মারাত্মক যে বিষয়টি দেখা গেছে তা হলো তাদের মিষ্টি তৈরীর চুলার পাশেই একটি টয়লেট রয়েছে। যা তারা ব্যবহার করে। আর এর পাশেই মিষ্টি তৈরীর যাবতীয় কড়াই, হাঁড়ি, পাতিল ও অন্যান্য জিনিস পত্রের ধোয়া মোছার কাজ চলছিল। এখান থেকে মিষ্টি বানিয়ে তারা শো-কেসে সাজিয়ে বিক্রি করতো’, বলেন ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, ‘দত্ত সুইটসকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’ এছাড়াও এ অভিযানে অবিক্রিযোগ্য ওষুধ বিক্রি, মেয়াদোর্ত্তীণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির দায়ে নগরীর মুরাদপুর মোহাম্মদপুরের চার ফার্মেসী ও সিরাজউদদৌলা রোডের এক ফার্মেসীকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
