চট্টগ্রাম: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতির ঘটনাটি শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ‘একটি মহলের ষড়যন্ত্র’ দাবি করার এক দিন পর তা প্রত্যাহার করেছেন সংসদ সদস্য এমএ লতিফ।
রোববার দুপুরে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতির ঘটনায় জড়িতদের ‘চিহ্নিত’ করতে পেরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য।
এমএ লতিফের দিকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন ছুড়ে দেন-এত কিছুর পরেও কী ওই মহলটির জড়িত থাকার কথা বলবেন? এমন প্রশ্নে এমএ লতিফ বলেন, ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলাম যে, এ ঘটনায়ও ওই মহলটির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এখন যেটি বেরিয়েছে তা কোনো রকম লুকোইনি। যা বেরিয়েছে তা আপনাদের (সাংবাদিক) সামনে উপস্থাপন করলাম।’
উদাহরণ দিয়ে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনি যখন দোষ করেছেন তখন বলবো, দোষ না করলে আমি কেন অপবাদ দিতে যাবো? আল্লাহর বিচার আছে না।’
‘তাই অবশ্যই আমি এ নিয়ে দেওয়া গতকালের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছি।আমি যেটি মনে করেছি তা ঠিক না, যতক্ষণ পর্যন্ত সত্যের কাছাকাছি যেতে না পারব ততক্ষণ কেন আমি ওটার ওপর নির্ভর করবো?
বিভিন্ন জায়গায় প্রতিকৃতি বিকৃতির ঘটনায় প্রতিবাদ হচ্ছে, আদালতে মামলা হয়েছে-এ বিষয়ে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এমন প্রশ্নে এমএ লতিফ বলেন, ‘আমি মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য। আমার দলের প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সব বিষয়ে অবগত আছেন এবং উনার নির্দেশ মোতাবেক দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত, যেকোনো বিষয়ে আমরা সবসময় মেনে চলি। এ বিষয়টি মহানগর আওয়ামী লীগের ফোরামেও আলোচনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আমার বক্তব্য হচ্ছে যেই করুক না কেন বের করাটা আমার দায়িত্ব, আওয়ামী লীগের অন্যান্য ভাইদের দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধুকে ছোট করা যাবে না।’
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা যা হয়েছে, মামলা মোতাবেক দল যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে সেভাবেই কাজ করবো।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে গত সাত বছর ধরে একটি মহল তার পেছনে লেগে আছে উল্লেখ করে এমএ লতিফ বলেছিলেন, ‘একবার না আমার ওপর বার বার করে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমাকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। আমাকে ঘায়েল করার জন্য তারা আর কোনো সুযোগ পায়নি। তাই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে।’
