জুবায়ের সিদ্দিকী : এদেশে ১৯৫২ সালের যে একুশ আমাদের আত্মমর্যাদা ও অহংকার সৃষ্টি করেছিল সে একুশ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের, অসত্যর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের। বাঙ্গালী জাতির আজ যা কিছু অর্জন তার নৈপথ্যে ১৯৫২ এর একুশ। ছোটকালে সকালে একুশের বাংলাভাষা গেয়ে খালি পায়ে শহীদ মিনারে প্রভাত ফেরী নিয়ে যেতাম। ফুলে ফুলে ভরে যেত শহীদ মিনার ।
এসবের ভেতর দিয়ে উপলব্ধি করার চেষ্টা ছিল শহীদদের আত্মত্যাগের প্রেরণাকে। এখন সেইগুলো হারিয়ে গেছে দৃশ্যপট থেকে। এখন বাঙ্গালীর সেই প্রভাত ফেরী সংকুচিত হয়েছে। এখন নতুন ফ্যাশন মধ্যরাতের র্যালীতে। ইংরেজদের থার্টিফাষ্টের যেন অনুকরণ। ইংরেজ চলে গেছে দেশ থেকে কিন্তু আমাদের রক্তের ভেতরে রেখে গেছে দাসত্বের বীজ। আমি মনে করি এটা একুশের চেতনার পরিপন্থি। একজন গুনীজন বলেছিলেন-“ একুশ মানে মাথা নত না করা” আর এখন আমরা মাথা বিকিয়ে দিচ্ছি।
একুশের প্রতিবাদের চেতনা, একুশের অর্জন এখন বিসর্জনের ভেলায় রুপান্তরিত হয়েছে। একুশের সাফল্যের অর্জিত এই দেশ এখন ব্যর্থতার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। একুশের ৬৪ বছরের অতিক্রম হচ্ছে। আমরা একটি স্বাধীন দেশ অর্জন করেছি । তার ও ৪৫ বছর চলছে। এত দীর্ঘ সময়েও আমাদের দেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে পারি নি।। উপরন্ত বাংলা-ইংরেজী মিলিয়ে এমন হাস্যকর ভাষার জম্ম দিচ্ছি যা আমাদের উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে পৃথিবীর অন্য ভাষার মানুষদের কাছে।
