এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই: মিরসরাইয়ে ফেনী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন হুমকিতে মৎস্য ঘের ও বসতবাড়ি এবং পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। উপজেলার ৫ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাতাকোট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসনিকভাবে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বালুখেকোরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন ফেনী নদীর উপকূল ঘেঁষে বসবাসকারী এবং মৎস্য ঘের মালিকরা। যেকোন সময় নদী ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যেতে পারে তাদের সহায় সম্বল।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোট গ্রামের আজমপুর বাজারের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে ফেনী নদী অংশ থেকে অবৈধভাবে ৪ টি ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় ২০-২৫ জনের একটি প্রভাবশালী চক্রের তত্বাবধানে জসিম মাঝি বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে স্থানীয়রা প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলেন না। ইতিমধ্যে ভাঙন হুমকিতে রয়েছে সোহাগের বাড়ি, মিলনের বাড়ি, ভান্ডারীর বাড়ি, শাহজাহানের বাড়ি, কামাল উদ্দিনের বাড়ি, মহি উদ্দিনের বাড়ি, শামসুদ্দীনের বাড়ি, জসিম উদ্দিনের বাড়ি, ভুলু মুক্তার বাড়ী, তৌহিদের বাড়ি, সিরাজ উদ্দিনের বাড়ি, আলমগীর হোসেনের বাড়ি। এছাড়া ভাঙন হুমকিতে রয়েছে আলা উদ্দিনের মৎস্য ঘের, মাহমুদীর মৎস্য ঘের, কবির মাষ্টারের মৎস্য ঘের, জাফর উদ্দিনের মৎস্য ঘের, ইউসুফের মৎস্য ঘের, ইকবাল হোসেনের মৎস্য ঘের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। তাই তারা অবাধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে করে ফেনী নদীর পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠা বসতবাড়ি, ফসলী জমি এবং মৎস্য ঘের হুমকির মুখে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় বর্তমানে তেমন ভাঙন দেখা না দিলেও আগামী বর্ষায় ভয়াবহভাবে ভাঙন দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শীঘ্রই এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।
৫ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, এখনো ইউনিয়ন পরিষদে কেউ অভিযোগ দেয় নাই। এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে ফেনী নদীর ওই অংশে বালু মহাল নেই।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়া আহম্মেদ সুমন জানান, ফেনী নদীর এই অংশ বালু মহাল রয়েছে কিনা তা আমি খোঁজখবর নেবো। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো।
…………….জেএম/ সিটিনিউজবিডি
