সিটিনিউজবিডি, চট্রগ্রাম : জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন সন্দীপনার সঙ্গীত, নাটক, আবৃত্তি, চারুকলা, নৃত্যকলা ও লোককলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৩ দিন ব্যাপী মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৮ ফেব্র“য়ারী নগরীর দোস্ত বিল্ডিং চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০ টায় সন্দীপনার সিনিয়র সহ সভাপতি শিক্ষাবিদ বাবুল কান্তি দাশ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। প্রধান বক্তা ও সম্মানিত উদ্বোধক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিবিদ্ জীতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু ও বিশিষ্ট ব্যাংকার নুরুল আরশাদ চৌধুরী।
সম্মানিত অতিথিবৃন্দের মাঝে ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজের অধ্যাপক রেজাউল করিম মোঃ তারেক, অধ্যাপক ড. আবু তালেব বেলাল, নাট্যজন শেখ শওকত ইকবাল, রাজনীতিক মোঃ জসিম উদ্দিন, আবৃত্তিকার মশরুর হোসেন, প্রকৌশলী অনিত কুমার নাথ, শিক্ষিকা তাহেরা খাতুন, নাট্যকর্মী শহীদুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক তরণী কুমার সেন প্রমুখ। একুশ উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান নাট্যকর্মী মেজবাহ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পর্বে ৩ দিন ব্যাপী কর্মসূচীর রূপরেখা তুলে ধরেন সন্দীপনার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ভাস্কর ডি.কে. দাশ (মামুন)। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- ওস্তাদ রতন কুমার রাহা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন- ৫২ থেকে ৭১ বাঙালীর রক্ত ঝরার কঠিন সময়কাল। এই দীর্ঘ সময়ের বাঙালী তার ভাষা ও স্বাধীনতা মরণপণযুদ্ধে চিরস্থায়ী করেছে। বক্তারা বলেন, বাংলা বর্ণমালা ভাষা আর মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত পবিত্রতায় অবিনশ্বর। বুকের রক্তদিয়ে মায়ের মুখের ভাষা অক্ষুন্ন রাখতে বাঙালীর মত বিশ্বের কোন জাতি এমন ত্যাগের ইতিহাস রচনা করতে পারেনি। আজ সময় এসেছে সেই মাতৃভাষার মান রক্ষা করার। নানা ভাবে স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে প্রমিত বাংলার রূপ পাল্টে দিয়ে যারা কিম্ভুতকিমাকার বাংলা চর্চায় অভ্যস্ত হচ্ছে তাদের হাত থেকে মায়ের ভাষাকে রক্ষা করার দায়িত্ব সুশীল শিক্ষিত নাগরিক সমাজকে নিতে হবে। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও বাংলা ভাষাবাসী মানুষের। যত্রতত্র সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, বিজ্ঞাপন, পত্রপত্রিকা, রেডিও-টেলিভিশন, সকল সরকাররি বেসরকারী কার্যক্রমে, পাঠ্যপুস্তকে প্রমিত বাংলাকে প্রাধান্য দিয়ে মাতৃভাষার মান অক্ষুন্ন রাখতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সন্দীপনার নাট্য ও নৃত্য শিল্পীগণ পরিবেশন করেন গীতিনাট্য “আমার বর্ণমালা”। দিনের শুরু থেকে তিন পর্বে তিন শতাধিক শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
সর্বশেষ পর্বে সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন- শিল্পী মুসলিম আলী জনি, নাট্যকর্মী এমরান হোসেন মিঠু, প্রকৌশলী সনজিত দে সঞ্জয়, নাট্যকর্মী জাহানারা পারুল, নাট্যকর্মী মোঃ রাশেদ, মোঃ দিদার হোসেন, প্রধান শিক্ষিকা মিনহাজুন্নিছা, উজ্জ্বল সিংহ, শিক্ষানবিশ ভাষ্কর রাসেল দত্ত রাজু, শিক্ষানবীস ভাষ্কর শিল্পী শিমু দেবী, কবি আসিফ ইকবাল, শাহিদা খানম শাহী, আজগর আলি, বাসুদেব রুদ্র, তরুন বিশ্বাস, রুমানা সুলতানা রুনা, বৃষ্টি চক্রবর্তী, ফৌজিয়া রেখা, রনজিত নাথ, মোঃ আজিম উদ্দিন প্রমুখ।
