আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিশরের একটি প্রাচীন কফিনের ঢাকনার গায়ে তিন হাজার বছরের পুরনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
ক্যামব্রিজের ফিৎজউইলিয়াম যাদুঘরের গবেষকরা বলছেন, আঙ্গুলের ছাপটি সম্ভবত একজন ছুতারের যিনি ওই কফিনটি তৈরি করেছিলেন। কফিনের ভিতরের ঢাকনাটি বার্নিস করার সময় ওই ছুতারের আঙ্গুলের ছাপ পড়েছিল। কিন্তু তিনি আর তা মুছার সুযোগ পারেননি। ফলে শুকানোর পরও এর গায়ে ওই ছাপ রয়ে যায়।
গবেষকদের ধারণা, এটি ছিল এক যাজকের কফিন। এটি যিশু খিস্টের জন্মের এক হাজার বছর আগের পুরনো। ওই যাজকের নাম নেসাওয়েরশেফিত। তবে তিনি নেস-আমুন নামেও পরিচিত ছিলেন। ফিৎজউইলিয়াম যাদুঘর ‘ডেথ অব নেইল’ নামে যে নতুন প্রদর্শনী শুরু করতে যাচ্ছে সেখানে তার কফিনটি ঠাঁই পেয়েছে। গত চার হাজার বছর ধরে মিশরে কফিনের নকশা কীভাবে পরিবর্তিত হয়ে আসছে সে সংক্রান্ত গবেষণার অংশ হিসেবেই ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
জাদুঘরের সংরক্ষণ শাখার প্রধান জুলি ডাওসন বিবিসিকে বলেছেন, গবেষকরা ২০০৫ সালেই আঙ্গুলের ছাপটি সনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু তখন সেটা ব্যাপকভাবে প্রচার পায়নি। এছাড়া জাদুঘরের এক মুখপাত্র আশা প্রকাশ করে বলেন, এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রাচীন যুগে যারা কফিন তৈরি করত তাদের বিষয়ে নতুন তথ্য সংগ্রহেও সহায়তা করবে।
ধারনা করা হয়, বিশ্বে মিশরের প্রাচীন যুগের যেসব কফিন সংরক্ষিত আছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উন্নত হচ্ছে নেস-আমুনের কফিনটি।
মিসেস ডাওসন বলেছেন, গবেষকরা আরো আবিষ্কার করেছেন যে, কফিনের ভিতরের বাক্সটি বড় আকারের মূল্যবান একটি কাঠ দিয়ে বানানো হয়েছে এবং এর নকশা দেখে মনে হয় এটির কারিগরা এ ধরনের কাজে বেশ দক্ষ ছিল। প্রাচীন যুগে এটিকে যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে তিনি সে কাজেরও প্রশংসা করেছেন।
