নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে নানামুখী আর্থিক সেবার পাশাপাশি সরকারি নীতি বাস্তবায়নে সোনালী ব্যাংক নিরলস কাজ করছে।দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সোনালী ব্যাংকের বিরাট অবদান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ফজলে কবির।
মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে ব্যাংকের বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ফজলে কবির বলেন, বৃহৎ শিল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, কৃষি ঋণ, পল্লি ঋণ, এসএমই ঋণসহ সরকারের সব নীতি বাস্তবায়ন করছে এ ব্যাংক।
দিনব্যাপী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন, মো. সাহেব আলী মৃধা, কাজী তারিকুল ইসলাম, একেএম রেজাউর রহমান, আফজাল হোসেন, সাবেরা আকতারী জামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও প্রদীপ কুমার দত্ত ও উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আ আ ম শাহজাহান। সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চট্টগ্রামের মহাব্যবস্থাপক মো. ওয়াশি-উর-রহমান।
কাজী তারিকুল ইসলাম বলেন, আমানত সংগ্রহ করে বিনিয়োগ করাই ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। এটি শতভাগ পূরণ করতে পারছি না আমরা। আমাদের সুনাম পুনরুদ্ধার করে সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে হবে।
মো. সাহেব আলী মৃধা বলেন, ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম বিভাগে সোনালী ব্যাংকের কর্মচারী ঋণ ছাড়া মোট ঋণের টার্গেট ছিল ২ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। কিন্তু অর্জন ১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। মামলা নিষ্পত্তির হারও খুবই কম। আমাদের ব্যাংকারদের শুধু আমানত সংগ্রহ নিয়ে চিন্তা করলে হবে না। প্রতিটি শাখার সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সচেষ্ট হতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের ২ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই, কারণ তাদের সরকারি মাসিক ভাতার হিসাব আপনার ব্যাংকে। সেখান থেকে ২ হাজার টাকা করে কেটে নিলেই ঋণ আদায় হয়। অথচ চট্টগ্রাম বিভাগে ৫০ কোটি টাকা মুক্তিযোদ্ধা ঋণের মধ্যে দিয়েছেন মাত্র ৪২ লাখ টাকা।
হলমার্কের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সৎ তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আইনের ভেতরে থেকে আপনাদের সহযোগিতা করবো। এ ব্যাংককে ভালোবেসে, দেশকে ভালোবেসে আপনারা কাজ করুন।
প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সোনালী ব্যাংক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমানে আমাদের ১ হাজার ২০৭টি শাখার মধ্যে ১ হাজার ২০১টিতে লাইভ অপারেশন চলছে। ৫০২টি শাখা সিবিএসের আওতায় এসেছে। ২০১৬ সালের মধ্যে সব শাখা সিবিএসের আওতায় আসবে। বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের এটিএম কার্ডের গ্রাহকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
