আন্তর্জাতিক : পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসিরকে হত্যার দায়ে তার দেহরক্ষী মুমতাজ কাদিরের ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
পাকিস্তানের কঠোর ধর্মাবমাননা (ব্লাসফেমি) আইনের সংস্কারের আহ্বান জানানোয় তাসিরকে ২০১১ সালে রাজধানী ইসলামাবাদে গুলি করে হত্যা করেন মুমতাজ।
উদারপন্থি শীর্ষস্থানীয় এই রাজনীতিবিদের এই হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল পাকিস্তান।
কিন্তু কিছু ধর্মীয় উগ্রপন্থি গোষ্ঠী হত্যাকারী মুমতাজকে ‘বীর’ হিসেবে চিত্রিত করেছিল।
বিবিসি বলছে, সোমবার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে ইসলামাবাদের কাছে আদিয়ালা কারাগারে মুমতাজের ফাঁসি কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন কারা কর্মকর্তারা।
ফাঁসি কার্যকর করার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মুমতাজের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কয়েক হাজার কট্টরপন্থি প্রতিবাদ মিছিল বের করে।
তবে দণ্ড কার্যকর করার আগেই থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে নিরাপত্তা বাহিনীকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়।
নিহত সালমান তাসিরের ছবির সামনে মোম জ্বেলে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এক নারী। ফাইলছবি: রয়টার্স নিহত সালমান তাসিরের ছবির সামনে মোম জ্বেলে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এক নারী। ফাইলছবি: রয়টার্স হত্যাকারী মুমতাজ পাকিস্তান পুলিশের অভিজাত কমান্ডো বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে তাসিরের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ইসলামাবাদের একটি মার্কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে তাসিরকে গুলি করেন তিনি।
তাসিরকে হত্যা করা ‘ধর্মীয় দায়িত্ব’ ছিল বলে দাবি করেন মুমতাজ।
পাকিস্তানে ‘ধর্মাবমাননা’ খুবই স্পর্শকাতর ইস্যু। সমালোচকরা বলছেন, দেশটিতে প্রায়ই ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার জন্য এই আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর শিকার হচ্ছেন দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।
১৯৯০ দশক থেকে দেশটিতে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অবমাননাসহ ধর্মাবমাননার কথিত অভিযোগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টানকে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিম্ন আদালতে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে পরবর্তী সময়ে সেসব দণ্ড খারিজ করে দেয়া হয়েছে।
