তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে – কর্নেল অলি

0

মো. দেলোয়ার হোসেন : আগামী ২৫ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহের সাংগঠনিক সফরে চট্টগ্রামে আসবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, প্রাক্তন মন্ত্রী আলহাজ্ব ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। এ সময় তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া সহ বেশ কয়েকটি উপজেলা ও পৌরসভায় সাংগঠনিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন।
সাংগঠনিক সফর সম্পর্কে কর্নেল অলি বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ক্রমান্বয়ে সবকটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে এলডিপি ও অঙ্গসংগঠন সমূহের সম্মেলন করা হবে। সম্মেলনের জন্য কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। তারই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা থেকে কর্মসূচী শুরু করবেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতির এ দুর্দিনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বন্ধের জন্য জাতীয় ঐক্যমত প্রয়োজন। সে ঐক্যমতে পৌঁছানোর জন্য এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ মধ্যবর্তী নির্বাচন। সরকারকে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশ ও দেশের জনগণের জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং এগিয়ে আসতে হবে। অর্থনীতিতে লুটপাট চলছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য আছে।

তবে গণতন্ত্র এবং সুশাসন ছাড়া কারো পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের আমূল পরিবর্তন রয়েছে। বিশেষ করে যুব সমাজকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বাস্তবসম্মত স্বপ্ন দেখাতে হবে, ধোকাবাজী বা ভাওতাবাজী নয়। সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য অতীতে হাজার কোটি টাকা খরচ করে আইডি কার্ড বানানো হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো-এ আইডি কার্ড সুষ্ঠু ভোটের জন্য কখনো ব্যবহৃত হয় নাই। শুধুমাত্র আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে, প্রত্যেক ভোটারকে নিজ নিজ আইডি কার্ড নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। ভোট প্রদানের সময় নিজ নিজ আইডি কার্ডের নাম্বার, ব্যালট পেপার এবং কাউন্টার ফাইলে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

অন্যথায় ঐ ব্যালট পেপার বাতিল বলে গণ্য করা হবে। এ বিষয় যদি নিশ্চিত করা যায়, সীলমারা ভোট এবং ব্যালট ডাকাতির ভোট বাংলাদেশে কখনো হবে না। ভোট ডাকাতির জন্য আমরাই সুযোগ করে দিয়েছি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি অকার্য্যকর সংস্থা। তাদেরকে কার্য্যকরী করতে হবে। সে সাথে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোন জায়গায় ভোট কারচুপি হলে নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আর কখনো ফ্রি স্টাইলে নির্বাচন হবে না।

তিনি আগামী ২৫ আগস্ট চন্দনাইশ সদরস্থ আমানতছফা বদরুননেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজে চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভা এলডিপির সম্মেলন, ২৭ আগস্ট একই স্থানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা গণতান্ত্রিক যুবদলের কর্মী সমাবেশ, ২৮ আগস্ট পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা এলডিপির সম্মেলন, ২৯ আগস্ট লোহাগাড়া এলডিপি’র সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে দক্ষিণ জেলা এলডিপির সভাপতি এড. কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ঐক্যমতের সরকার দরকার। গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয়।

আমাদের প্রত্যেকের শহীদদের প্রতি কমিনমেন্ট রয়েছে। সে কমিনমেন্টকে সামনে রেখে ভোগের রাজনীতি না করে ত্যাগের রাজনীতির মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন তিনি। গণতন্ত্র উন্নয়ন স্থায়ী হয় না বলে তিনি দাবী করেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.