সীতাকুন্ড স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স একাধিক রোগে আক্রান্ত

0

কামরুল ইসলাম দুলু : ডাক্তার আছে- কর্মে নেই, আয়া আছে পরিচ্ছন্নতায় নেই, সিট আছে তো বেড সিট ও বালিশ নেই, বাথরুম আছে তো পরিস্কার নেই, খাবার আছে তো স্বাদ নেই, জেনারেটর আছে তো আলো নেই, ফার্মেসী আছে তো ঔষুধ নেই, আর এতোসব নেই গুনে গুনান্বীত হয়ে জনস্বার্থে দাড়িয়ে আছে একমাত্র সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

দিন যত যাচ্ছে নেই’র সংখ্যাও দিনে দিনে বৃদ্ধি পেতে চলছে। ফলে চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠেছে জনসেবার পরিবর্ত জনগনের বিষ ফোটা। এরপরও চিকিৎর্সা আশায় কিছু মানুষ হাসঁপাতালের দৌড় গোড়ায় পৌছে থাকলেও বিদায় নিতে হয় বিড়ম্বনাকে আলিঁঙ্গন করে। অথচ ৫০ শয্যা উন্নিত করনের পাশাপাশি সেবা বাড়াতে যোগান দেয়া হয়েছে ডাক্তারসহ সকল প্রকার সুবিধা।

তারপরও সমস্যা সমস্যায় থেকে যাওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় কত্রাতে হচ্ছে অসহায় হত দরিদ্র মানুষগুলোকে। এ সমস্যা হতে উত্তরনে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ৩৫ জন ডাক্তার। তবে খাতা-কলমে লিপিবদ্ব থাকলেও সকল ডাক্তারের দেখা পায় না রোগীরা। এ অবস্থায় পড়ে ডাক্তার আছে তো সেবা নেই’র দশা চলছে হাসপাতালে জুড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাত যত ঘনিয়ে আসে ততই হাসপাতাল হয়ে উঠে অচিনপুরির ভ’ত রাজ্য। খাঁ-খাঁ করা গলিগুলোতে চলে আলো-আধাঁরের খেলা। আলোয় ভরা চীর চেনা গলিগুলো বিদ্যুৎ যেতেই হয়ে উঠে ভ’তুড়ে গলি। গভীর রাতের শুনশান হাসপাতালে একটা লোক খোজে পাওয়া যাবে না মৃতপ্রায় সমস্যার কথা শুনবে।

এভাবে ভাগ্যের উপর ভর করে রাত পার করতে হয় নিরুপায় রোগীদের।রোগীরা বলেন,‘ একটি বেডে ৭দিন পার হলেও পরিবর্তন নেই বেড সিটের। সারাদিনে ফ্লোর একবার মুচা হয় নামে মাত্র। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে টয়লেটের র্দুগন্ধে ভনভন করে উড়ে আসা মশা-মাছিতে ভরে উঠে ফ্লোর। অনুপোযুগী খাবার পরিবেশন হওয়ায় মুখে দিলে নাড়ি-ভুড়ি বের হওয়ার উপক্রম হয় বলে জানান রোগীরা।

অথচ শত অভিযোগ হলেও কর্ণপাত করে না ফ্লোর ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষ। বরং কিছু বলার চেষ্টা করলে উল্টো রোগীদের হাসপাতাল হতে বের করে দেয়ার দেয়া হয় হুমকী। আবার মাসিক মাসোয়ারায় কাপড় ধূতকারী ও খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের অনিয়ম দেখেও না দেখের ভান করে চলেন ফ্লোর ইনচার্জ।

এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীল একটি চক্র হাসপাতালের সকল বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখার পরও অনিয়ম দুণীর্তি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার লোক নেই। তাই তো জামাত সমর্থীত লোক খাবারের ঠিকাদারী চালিয়ে যাচ্ছে যেনতেনভাবে। একইভাবে ফ্লোর ইনচার্জও আতাতের কারণে সাক্ষর করে চলেন সব কিছুতে।

আবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিষয়ে প্রতিক্রিয়শীলতার বিষয়টি অনেকটা পরিচ্ছন্ন হলেও গভীরে ঢেকে রয়েছে চুপিসারে। তবে চোখে পড়ার মত সকল অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা চলানো হচেছ। এরপরও অগোচরে কিছু থেকে থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরুল কমির রাশেদ।

আর এভাবে কর্মকর্তার দায়ীত্বহীনতার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র হতে সু-চিকিৎসা সেবা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান বলেন,‘ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা দুরীকরনে সব রকমের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরপরও সরকারের উন্নয়ন যাত্রাকে কোনো চক্র ব্যহত করার চেষ্টা চলালে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তা সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.