সেই ডালিম হোটেল ছিল যেন একটি ‘‘ডেথ ফ্যাক্টরী’’

0

জুবায়ের সিদ্দিকী/বাবর মুনাফ : চট্টগ্রাম মহানগরীর টেলিগ্রাফ রোডের মহামায়া ভবন। এই ভবনটিই ছিল কাসেম আলীর টর্চার সেল। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষদের ধরে এনে এখানে অকথ্য নির্যাতন করে হত্যা করত মীর কাসেম ও তার বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর বাহিনীর হেড কোয়ার্টার ছিল এই ভবনের ডালিম হোটেল।

এই ভবন এক হিন্দু মালিকের ছিল। এই ভবনটি দখল করে তিনি নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে তুলেন মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে চট্টগ্রামে নৃশংসতা ও গণহত্যার নায়ক ছিলেন মীর কাসেম আলী। বাঙালী খাঁন নামে তিনি তখন পরিচিত ছিলেন। কাসেম আলীর ৩টি টর্চার সেল। এর মধ্যে প্রধান ছিল ডালিম হোটেল। এই হোটেলে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন করা হয়েছে। এবং এরপর নৃশংসভাবে হত্যা করা হত। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন বাঙালীকে ধরে এনে অমানুষিক নির্যাতন করা ও হত্যা করা হত। রড দিয়ে পেটানো, বৈদ্যুতিক শক দেয়া হত। বন্দিরা পানি চাইলে রাজাকাররা প্রস্রাব করে তা পান করতে দিত।
আদালত বলেছেন, ডালিম হোটেল সত্যিকার অর্থেই একটি ‘‘ডেথ ফ্যাক্টরী’’ ছিল।
মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর জানান, মীর কাসেম আলী সে সময় খোলা জীপ নিয়ে নগরীতে ঘুরে বেড়াত। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তিনি তখন বিভিন্ন স্থানের থেকে মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন করে হত্যা করতেন। মীর কাসেমের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সহযোগী ও স্থানীয় হিন্দুদের ধরে সেখানে নিয়ে চালানো হত অমানুষিক নির্যাতন। ডালিম হোটেলে মীর কাসেম এলে আল বদর সদস্যরা ‘‘খান আ…….গ্যায়া- কাসেম সাব আ গ্যায়া’’- হাঁক পড়ত। নির্যাতিতরা জানান, অন্ধকার কক্ষে নগ্ন করে পেটানোর পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হত। এই টর্চার সেলে নির্যাতিত হয়েছেন নগরীর কদমতলীর বাসিন্দা জাহাঙ্গীর চৌধুরী, সাংবাদিক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মো: এমরান, সাইফুদ্দিন খান, নুরুন্নবী, অরুন কুমার চৌধুরী, শফিউল আলম চৌধুরী, ইরশাদ কামাল খান, ড. মোসলে উদ্দিন খান, সেলিম, মেজবাহ উদ্দিন প্রমুখ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.