চমেক হাসপাতাল : সিট বাণিজ্য ও দালাল চক্র সক্রিয়

0

জুবায়ের সিদ্দিকী/গোলাম শরীফ টিটু : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) এখানে টাকা ছাড়লে সিট পাওয়া যায়। না হয় চিকিৎসা নিতে ঠাঁই হয় হাসপাতালের বারান্দায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুনের বেশি রোগী থাকায় এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, এই মোক্ষম সুযোগটা নিচ্ছে এই হাসপাতালে কর্মরত বিনা বেতনে প্রায় সাড়ে ৩শত ওয়ার্ড বয়। এদের সাথে আবার সহযোগিতায় আছে দালালচক্র। যে কারণে হাসপাতালে সেবা নিতে গিয়ে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত হয়রানী ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। ওয়ার্ড বয় ও দালালদের এই প্রকাশ্যে সিট বাণিজ্যের কারণে অসহায় রোগী বারান্দাতে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কোটি মানুষের একমাত্র চিকিৎসালয় এই মেডিকেল হাসপাতাল। হাসপাতালে ১ হাজার ৩০০ শয্যা রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন রোগী থাকে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় সিট, জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকট রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এই হাসপাতালে প্রতিটি ক্ষেত্রে রোগী ও স্বজনদের হয়রানীর শিকার হতে হয়।
রোগী ও স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, চমেক হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। নানা অনিয়ম, সেবিকা ও ওয়ার্ড বয়দের এবং চিকিৎসকদের র্দ্যুব্যবহার রোগী ও স্বজনদের এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় রাখে। যারা অর্থের প্রভাবে প্রাইভেট কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে পারেননা তাদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল চমেক হাসপাতাল। সমাজের দরিদ্র ও গরীব মানুষকে এখানে চিকিৎসার জন্য গুণতে হয় টাকা। অপরিস্কার, অপরিচ্ছন্ন ও অনিয়মের সাথে এই হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত।
ভোগান্তি, দুর্ভোগ, কষ্ট মাথায় নিয়ে শুধু চট্টগ্রাম মহানগরী নয়, সব কয়টি উপজেলা থেকেও প্রতিদিন রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন।
ফটিকছড়ির নাজিরহাট থেকে আসা রোগী জয়নাল তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন সন্তান প্রসবের জন্য। ঔষধের দোকানে যেতে দেখা হলে তিনি বলেন, সিজার হবে ঔষধ ক্রয় করতে যাচ্ছি। আল্লাহর ওয়াস্তে চিকিৎসা হচ্ছে। আমরা গরীব কোথায় যাব। এই হাসপাতালই ভরসা। এখানে টাকা ছাড়া কোন কিছু হয় না। চিকিৎসা হচ্ছে ভাল। তবে সবার মেজাজ যেন কড়া। ভাল ব্যবহার বা সুন্দর কথা এখানে আশা করা বৃথা। আপনাকে বলতে বাধ্য হচ্ছি, ‘‘আল্লাহ যেন দুশমনকেও এখানে না আনে’’।
এমন অভিযোগ অনেক মানুষের। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ চলে না। কারণ: ওরা এই শহরে দাপটশালী, প্রভাবশালী। হোক ওয়ার্ডবয় বা ডাক্তার।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.